প্রকাশ : 2018-03-20

শিক্ষকদের আল্টিমেটাম চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে

চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে ১৮টি শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে শিক্ষক কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ৬৪টি জেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদের মতামতে গঠিত হয় ওই জোটের কেন্দ্রীয় কমিটি। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এই কমিটির আহ্বায়ক। প্রতিনিধি সমাবেশ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে সরকারকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জাতীয়করণের এক দফা দাবির সাথে বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধিও দাবি করা হয়। এ দাবিতে ১৪ এপ্রিল রোববার সকল উপজেলায় বিক্ষোভ, ১৮ এপ্রিল বুধবার সকল জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হয়। আগামী ২০ জুলাইর মধ্যে চাকুরি জাতীয়করণের ঘোষণা না হলে দলমত নির্বিশেষে ২২ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট এবং ২৯ জুলাই ঢাকায় মহাঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষকেরা। চাকরি জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম বা সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ দাবীতে কর্মসূচী ঘোষণা করে অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, চাকুরী জাতীয়করণের দাবি শুধু শিক্ষকদের প্রাণের দাবী। এ দাবীতে সারাদেশের শিক্ষকরা আজ একমত। এ দাবী শিক্ষকদের জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে। এ দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা আর ঘরে ফিরবে না। তিনি দেশের সকল শিক্ষক সংগঠনকে এ দাবীতে জাতীয় ঐক্যমঞ্চ গড়ে তোলাও আহবান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা বার বারই বৈষম্যের ও প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের ৬৪টি জেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম, মাওলানা মো: দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ শামসুল হক, মো: জাকির হোসেন, বরিশাল জেলার শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, কুমিল্লা জেলার অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার এম এ ছফা চৌধুরী, দিনাজপুরের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার হোসাইন মাতবর, বান্দরবান জেলার মেহি মারমা, সিরাজগঞ্চের হাশিম তালুকদার প্রমুখ। ১৮টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নবগঠিত জোটের সংগঠনগুলো হলো- ১. বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ২. বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি ৩. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি ৪. বাংলাদেশ অধ্যক্ষ সমিতি ৫. বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতি ৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন ৭. বাংলাদেশ সহকারি অধ্যাপক সমিতি ৮. বাংলাদেশ সহকারি প্রধান শিক্ষক সমিতি ৯. বাংলাদেশ সহকারি শিক্ষক সমিতি ১০. বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি ১১. বাংলাদেশ কারিগরি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ১২. বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সমিতি ১৩. বাংলাদেশ গ্রন্থাগার শিক্ষক সমিতি ১৪. বাংলাদেশ প্রভাষক সমিতি ১৫. বাংলাদেশ সংযুক্ত শিক্ষক ফেডারেশন ১৬. নন এমপিও শিক্ষক সমিতি ১৭. বাংলাদেশ কলেজ কর্মচারী ইউনিয়ন ১৮. বাংলাদেশ মাধ্যমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। ১৮টি সংগঠনের সভাপতি পদাধিকার বলে যুগ্ম আহ্বায়ক। সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ সদস্য হিসেবে থাকবে।