রবিবার, জুলাই ৫, ২০২০
প্রকাশ : 2020-06-17

আদর্শিক,ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মৃত্যুতে জাতি ও দল হুমকির পথে

১৭জুন,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজনীতিবিদ হারিয়ে যাওয়া মানে দেশের সম্পদ চলে যাওয়া। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ক্ষতি পুরন করার নয়।করোনা ভাইরাস দুর্যোগের কারনে দেশের অনেক অভিজ্ঞ,জনপ্রিয়, ত্যাগী, আদর্শিক,জনতার বন্ধু,আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হারিয়ে আজ মহাসংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি।এ সংকট আরো বেশি ঘনিভুত হবে বলে মনে করছি কারন যেসব রাজনীতিবিদ ৭০ এর চেয়ে বেশি তাদেরকে এই মহামারী করোনাভাইরাস ধরলে খুব জটিল আকার ধারণ করে।এছাড়াও অনেকে হার্ট স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে।অনেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।আর যারা আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে আছে তারাও সচেতনতা পালন করে যাচ্ছে। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা আজ চিন্তায় আছি কারন ভালো ভালো লোক গুলো যদি চলে যায় শুধু দলের না দেশের জন্য সম্পদ চলে যাওয়া।একজন জাতীয় নেতা সৃষ্টি হতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় হুট করে নেতা জন্ম নেয়না।তাদের ত্যাগ- তিতিক্ষার ইতিহাস দীর্ঘ। ছাত্র জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে যুব রাজনীতি করে মুল দলের প্রবেশ করতে তাদের জীবনের সময় চলে যায়।তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসাবে দাড় করাতে সব লড়াই সংগ্রাম ইতিহাস রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যায় এক কথায় অতুলনীয়। কত জেল জুলুম হুলিয়া আর নির্যাতিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে তারা এগিয়ে যায়।তারা সব সময় জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করতে সোচ্চার থাকে। দেশের ভাষা আন্দোলন,৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬৬ এর দফা আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন,৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলন,৭৫ এর জাতির পিতা হত্যার সরকার বিরোধী আন্দোলন,৯০ এর স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,৯৬ এর স্বৈরচ্চারীনী আন্দোলন, ২০০১ এর ভোট ভাতের অধিকার আন্দোলন,১/১১ এর আন্দোলন সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজনীতিবিদদের ভুমিকা অতুলনীয় ও ত্যাগের ইতিহাস। আমরা এই সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতত্ত্বে তার সাথে বাংলার বাঘ খ্যাত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক,মুজিব সরকারের উপদেষ্টা মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক শহীদ সোহরাওয়ার্দী,আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক,জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তাজুদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী,এ এইচ এম কামরুজ্জামান সহ অসংখ্য নেতাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। তা সম্ভব হয়েছে ও একমাত্র দাবীদার রাজনীতিবিদদের কারণে।প্রতিটি অসম্প্রাদায়িক,গনতান্ত্রিক আন্দোলন,বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে শাহাদাত বরন করেন সবাই রাজনীতিবিদ।এসকল বীরদের কারণে আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেয়েছি তার সকল মুলের অবদান রাজনীতিবিদ।আমরা সে সকলদেরকে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাদের প্রতি আমাদের আজীবন ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রইল। বর্তমান রাজনীতির কথা উঠলে আমরা দেখতে পাব সেই পুরানো রাজনীতিবিদের কথা যারা এদেশের জন্য অনেকে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়ে তবুও এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু হঠাৎ করে মহাদুর্যোগের করোনাভাইরাস এসে অনেকের জীবন নিয়ে যায় যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।আমরা ইতিমধ্যে হারিয়েছি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,আদর্শিক,আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা সাবেক মন্ত্রী,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম,সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা কিংবদন্তি,সাবেক সিটি মেয়র,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য জননেতা বদরুদ্দীন কামরান,বিশিষ্ট আলেম,মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম সম্পাদক হাফেজ শেখ আব্দুল্লাহ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় অনেক পরিক্ষীত,জনপ্রিয়, আদর্শিক নেতা হারিয়ে দল ও দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। অদুর ভবিষ্যতে আরও খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে হয়।এসব নেতাদের স্থান পুরনের মত নেতা তৈরি হচ্ছে না।তাদের জায়গা দখল করছে আমলা,ব্যবসায়ী,উত্তরাধিকারী সুত্রে প্রাপ্তরা,অযোগ্য লোকেরা যা ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত।আগের সেই নেতার মত আদর্শিক,ত্যাগী,যোগ্যতা,ইতিহাস সৃষ্টিকারী নেতার অভাবপুরন হচ্ছে না বিধায় দিনদিন রাজনীতি অধঃপতনের চিত্র ফুঠে উঠছে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা।দল ও দেশের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতা নাসিম ভাই,সিলেটের মানুষের জনপ্রিয় নেতা কামরান ভাই,গোপালগঞ্জের আদর্শিক নেতা হাফেজ আব্দুল্লাহ সাহেবের মত তৈরি হওয়া নেতা চলে যাওয়া মানে দলের একটা অংশ ঝরে যাওয়া।এধরনের নেতা তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তারা মানবতার নেত্রী,বাংলার দুঃখী মানুষের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা রেখে দলের দুঃসময়ে' নিবেদিত হিসাবে কাজ করেছে।সুখে দুঃখে দলের সাথে ছিল।দলের জন্য তাদের অবদান ও ইতিহাস যেমন আছে তেমনি দেশের জন্য তাদের অবদান অতুলনীয়।দেশের প্রতিটি উন্নয়ন ও ভালো কাজ করে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। তৃনমুল থেকে নেতা হওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। তবুও অল্প কয়েকজন যারা নেতা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিরাট একটা গ্রুপ কাজ করেছে যাতে তারা ভালো জায়গায় না যায়।তারা সুকৌশলে তৃনমুল থেকে উঠে আসা নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্রের নক্সা করে যায় আর যারা লড়াই সংগ্রাম করে আদর্শিক নেতারা আপোষহীন হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারাও কষ্টে আছে কেননা তারা যে কমিটিতে কাজ করেছে তাতে বেশী তেলবাজ,চামচা আর অযোগ্য লোকেদের ভরপুর। এসব লোকজনের বিরুদ্ধে কাজ করা কঠিন।তবুও কিছু আদর্শিক নেতা এগিয়ে যাচ্ছে।সত্যে,ত্যাগ ও আদর্শের জয় হোক।এদেশে জননেতা নাসিম,কামরান ও শেখ আব্দুল্লাহ এর মত আদর্শিক,পরিক্ষীত নেতা জন্ম হোক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর