প্রকাশ : 2020-09-08

গঠিত হলো কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ

০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত দুই মাসের অক্লান্ত চেষ্টায় সংগীতাঙ্গনে এসেছে শুভ বারতা। ঐক্যহীন সংগীতাঙ্গনে কণ্ঠশিল্পীদের ন্যায্য ও নৈতিক-আর্থিক অধিকার সংরক্ষণ এবং সংগীতে নৈরাজ্য বন্ধে গীতিকবি সংঘ ও মিউজিক কম্পোজারস অ্যাসোসিয়েশনের পর এবার ঐক্যবদ্ধ হলেন কণ্ঠশিল্পীরাও। এ সংগঠনে আহবায়ক হিসেবে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিত ও নন্দিত গায়ক হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের সমন্বয়ে একটি পূর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির উপদেষ্টামন্ডলীতে আছেন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হাদী, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, খুরশীদ আলম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, রফিকুল আলম, ফকির আলমগীর, লিনু বিল্লাহ, শাহীন সামাদ, পাপিয়া সারোয়ার, ফেরদৌস আরা, তপন মাহমুদ, ফাতেমা তুজ জোহরা, আবিদা সুলতানা ও ইয়াকুব আলী খান। নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন ফাতেমা তুজ জোহরা, আবিদা সুলতানা, সাদি মহম্মদ,কিরণ চন্দ্র রায়, তপন চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী, রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, আসিফ আকবর, অদিতি মহসিন, খায়রুল আনাম শাকিল, শফি মন্ডল, রবি চৌধুরী, এস আই টুটুল, আগুন, আঁখি আলমগীর, চন্দন সিনহা, দিনাত জাহান মুন্নী, অনিমা রায়, প্রিয়াংকা গোপ, মঈদুল ইসলাম খান শুভ, জয় শাহরিয়ার, কিশোর দাস, সোমনূর মনির কোনাল, ইলিয়াস হোসাইন। এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির নবনিযুক্ত আহবায়ক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, বাংলা গানের রয়েছে এক অভূতপূর্ব ক্ষমতা ও ঐতিহ্য। সংস্কৃতির সকল ধারার মধ্যে গান মুহুর্তেই ছুঁয়ে যেতে পারে কোটি হৃদয়, জাগিয়ে তুলতে পারে চেতনা। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম, স্বাধীনতাসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উদ্দীপনা যুগিয়েছে সংগীত, গান। ২০২১ এ পালিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ দীর্ঘ ৫০ বছরেও অবহেলিত সংগীতাঙ্গনের মানুষদের জন্য কোনো সুষ্ঠ রুপকল্প বা নীতিমালা তৈরী করা যায়নি। সংস্কৃতির অন্য সব ধারায় আছে শক্তিশালী সংগঠন, ঐক্য। তারা সাংগঠনিকভাবে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে পারেন। আজ কণ্ঠশিল্পী সংস্থা বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে এক বৃহৎ ঐক্যের দুয়ার খুলে গেল। সময়ের প্রতিকূলতার কারণে অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। আমরা এজন্যে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ন কণ্ঠশিল্পীদের অন্তর্ভূক্তি উন্মুক্ত রেখেছি। যুগ্ম আহবায়ক কুমার বিশ্বজিত বলেন, বিগত দিনে আমরা সংগীতের অনেক গুণীজনকে হারিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। করোনাকালে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় কর্মহীন পার করে হাঁপিয়ে উঠেছেন শিল্পীসমাজ। কণ্ঠশিল্পীদের আয়ের প্রধান মাধ্যম স্টেজ, আর সে স্টেজ শো আজ বন্ধ। এ বাস্তবতা সংঘবদ্ধভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। একথা সত্য আমাদের দেশের বরেণ্য শিল্পীরা গানকে ভালোবেসে সৃষ্টিতেই মগ্ন থাকেন। তারা অর্থের দিকে কখনোই ধাবিত হন নাই। কিন্তু নিজের সৃষ্টির প্রাপ্য অন্যের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে চলে যাওয়ায়, তা বন্ধে ঐক্যের প্রয়োজন। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের সৃষ্টি তার এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে একমাত্র সম্পদ। আর তা সংরক্ষণে আমরা বদ্ধপরিকর। শিল্পীরা চান তাদের সৃষ্টির যোগ্যতা নিয়ে স্বাবলম্বী হতে। এই স্বপ্নকে সামনে রেখে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের অগ্রজ এবং নবীন প্রগতিশীল কণ্ঠশিল্পীদের সংগঠিত করে আমরা সজ্ঞানে, সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে Singers Association of Bangladesh (কন্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ) গঠন করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।