প্রকাশ : 2018-03-31

ভারত-বাংলাদেশে যত মিল: প্রশ্নপত্র প্রশ্নফাঁসে

ভারতে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল-এটা জানাজানি হওয়ার পর সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সরকার একটু বেকায়দায় আছে। ভারতের প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রশ্নফাঁসের ঘটনার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নফাঁসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে। প্রশ্নফাঁসকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লোজড গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন নির্দিষ্ট গ্রাহকদের হাতে। তারপরও তা ওই গ্রুপের বাইরে চলে আসে। দ্বিতীয়ত, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় ক্ষেত্রেই এমন সন্দেহ করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই জানতেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। তারপরও তারা পরীক্ষা বন্ধ করার বা স্থগিত করেনি। তৃতীয়ত, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দুই দেশেই পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ যেন শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই। বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন, একই দশা ভারতের শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরেরও। প্রতারিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমি তো রাতে ঘুমোতেই পারিনি এমন মন্তব্য করেও রেহাই পাননি শিক্ষামন্ত্রী। বরং সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সমাজতত্ত্ববিদ আশিস নন্দী বলেন,ভারত-বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সবচেয়ে বড় মিল হলো সামাজিক অবক্ষয়ের। ছেলেমেয়ের মার্কশিটে বাড়তি কয়েকটা নম্বরের জন্য কিছু কিছু বাবা-মা যে কোথায় নামতে পারেন এই দুটো দেশেই, তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। কিছুটা রসিকতা করেই তিনি বলেন,দিল্লিওয়ালা বলতে যাদের বোঝায় তাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে অবশ্য কোনোকালেই বিশেষ সুনাম ছিল না। কিন্তু বাঙালি যে মূল্যবোধ নিয়ে এতদিন গর্ব করে এসেছে সেটাও যে কত ঠুনকো তা আজকের ঢাকা বা কলকাতা উভয়েই প্রমাণ দিচ্ছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ নির্মলাংশু মুখার্জি বলেন,দুটো দেশেই মূল গলদটা হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সিস্টেমে। যে সিস্টেম আপনাকে নোট মুখস্থ করে উত্তরে লিখলেই এত এত নম্বর পাওয়া যায়, সেখানে প্রশ্নফাঁস একরকম অনিবার্য। ভারতই বলুন কিংবা বাংলাদেশ, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা প্রমাণের সুযোগ এত কম যে আমি মনে করি আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। সেখানে একটা দুর্নীতি আরও বড় দুর্নীতি ডেকে আনবে। এটাই কি স্বাভাবিক নয়? দিল্লির অ্যামিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল রেনু সিংয়ের মতে, তথাকথিত কোচিং সেন্টার গুলোই যাবতীয় নষ্টের মূলে। তিনি বলেন, ;বাংলাদেশের ঘটনা আমি যতদূর শুনেছি, সেখানেও এক শ্রেণির কোচিং সেন্টারই প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা। দিল্লিতেও পুলিশ জেরা করছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারকেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্কুলেই ভালো পড়াশুনো হয় অভিভাবকদের যতদিন এটা বিশ্বাস করানো না যাবে ততদিন এ ধরনের ঘটনা আপনি ভারতেও শুনবেন, বাংলাদেশেও হয়তো শুনতে থাকবেন।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন