প্রকাশ : 2020-09-21

অক্টোবরের থেকে সাংগঠনিক সফরে নামছে আ. লীগ

২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অক্টোবরের শুরু থেকেই দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে নামছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। লক্ষ্য করোনা স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে চাঙা করা। এর মধ্যে তৃণমূলের সব ইউনিটে কাউন্সিল ও পূর্ণাঙ্গ কমিটিও করতে চায় দলের হাইকমান্ড। কিন্তু টানা ক্ষমতায় থাকার ১ যুগের মাথায় দলের ভেতর বাইরের অন্তর্কোন্দল মেটানোসহ এ সফরে চ্যালেঞ্জ কতটা? নেতারা বলছেন, জোর দেয়া হবে দলীয় কোন্দল নিরসনে। মূল্যায়ন করা হবে ত্যাগীদের। ৫টি সংসদীয় আসন, ৯ উপজেলা, ৪ জেলা ও ৬১টি ইউনিয়নের উপনির্বাচনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। তবে এর বাইরেও প্রতিদিনই এ কার্যালয়ে আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূল নেতারা। কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে ৩১ জেলা ইউনিটের সম্মেলন হয়েছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ হয়নি কমিটি। পূর্ণ কমিটির সে তালিকা দলের দপ্তরে জমা দিচ্ছেন নেতারা। আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। ইতোমধ্যে আমরা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্মেলন হয়ে যাওয়া জেলার কমিটির তালিকা হাতে পেয়েছি। অনেক অভিযোগ এসেছে, আর বাকি কমিটিগুলোর তালিকা আমি আশা করছি এ মাসের মধ্যেই আমাদের হাতে আসবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে যেখানে ছিল সুনসান নীরবতা, স্থবিরতা সেখানে এমন কর্মচঞ্চল, কর্মীদের আনাগোনা। এর মধ্যে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে মাসের শুরুর দিকেই জেলায় জেলায় বেড়িয়ে পড়বে কেন্দ্রীয় নেতারা। এরই মধ্যে দলীয় সভাপতির নির্দেশে ৮ বিভাগে যে ৮টি টিম সফর করবে; প্রস্তুত হয়েছে তার খসড়াও। প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে এ টিমে থাকবেন যুগ্ম সম্পাদক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা। আওয়ামীলীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যখন একটা জেলায় যাবে সেই জেলায় একটা কর্মচাঞ্চলতা সৃষ্টি হবে। জেলা পার হয়ে যখন উপজেলা যাবে তখন সেখানকার নেতারা আরও প্রাণ চঞ্চলতা ফিরে পায়। কাজেই আমরা সেই বিষয়গুলো করতে চাই। করোনা সংকটের মধ্যেও কিশোরগঞ্জের একটি উপজেলায় সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে। অন্তর্কোন্দল আছে তৃণমূলের বেশিরভাগ ইউনিটে। নেতারা বলছেন, কোন্দল নিরসনের পাশাপাশি ত্যাগী কর্মীর পদ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, সেন্ট্রাল কমিটি থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে লাখ লাখ সংগঠন আছে তার মধ্যে দু’একটি সংগঠনে মারামারি হলে আমি মনে করি সেটা সিরিয়াস ব্যাপার না। তবে যেখানে মারামারি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা প্রতিহিংসা সৃষ্টি করছেন, যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আরও পড়ুন- অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে ‘চাপে’ আ. লীগের উপকমিটি চলতি মাসের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে আওয়ামী লীগের ৫ সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এছাড়া দলকে গতিশীল করতে চলতি বছরের মধ্যেই ৭৮ সাংগঠনিক ইউনিটে সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।

রাজনীতি পাতার আরো খবর