প্রকাশ : 2020-10-01

জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

০১অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করে ঋণ জালিয়াতির ২৬ মামলায় জড়ানোর ঘটনায় তাকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা পরিশোধের এক সপ্তাহের মধ্যে তা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলায় পুনরায় শুরু হওয়া তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে তা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া এ ঘটনায় দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর জাহালম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ১৫ লাখ টাকা দিতে রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়ে আমি খুশী। এই টাকা তাড়াতাড়ি চাই। দ্রুত টাকা পেলে দায়দেনা পরিশোধ করবো। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি রোধ করাই যাদের প্রধান কাজ। তারা স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ করবে। জনগণের প্রত্যাশা, দুদক সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আইনের আলোকে জাহালমের ঘটনায় দুদককে দায়ী করা না গেলেও দুদকের নবীন কর্মকর্তাদের চরম অবহেলা ও অদক্ষতা প্রতীয়মান হয়েছে। যদিও সিনিয়র কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ওই তদারকি কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। আদালত বলেন, আমরা আইনের আলোকে বিবেচনায় নিচ্ছি যে দুদক কাজটি করেছে সরল বিশ্বাসে। এখানে দুদকের অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আদালত বলেন, আমরা আশাকরি, দুদক ভবিষ্যতে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকবে। শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনিসুল হাসান ও সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রুলের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় এটি রায়ের জন্য ছিল। কিন্তু এদিন দুদক, সোনালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক নিজেদের পক্ষে শুনানি করেন। এরপর আদালত রায়ের জন্য বুধবার দুপুর দুইটায় সময় নির্ধারণ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, জাহালমের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আদালত রায়ের জন্য সিএভি রেখেছেন। অর্থাৎ যে কোনো দিন এ রায় ঘোষণা করা হবে। গত বছরের জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে ৩৩ মামলায় ভুল আসামি জেলে স্যার, আমি জাহালম, সালেক না... শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা, মামলার বাদীসহ চারজনকে তলব করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া রুলও জারি করেন আদালত। পরে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টরা হাজিরের পর হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন এবং দুদকের কাছে ঘটনার বিষয়ে হলফনামা আকারে জানতে চেয়েছেন। সে আদেশ অনুসারে দুদক হলফনামা আকারে তা উপস্থাপন করেন। পরে জাহালম প্রশ্নে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এফ আই আর, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট এবং সকল ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নথিপত্র দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত ১৭ এপ্রিল জাহালম কাণ্ডে কে বা কারা দায়ী তা দেখার জন্য এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এসব মামলায় দুদক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। জাহালম নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্যার, আমি জাহালম। আমি আবু সালেক না আমি নির্দোষ। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো লোকটির বয়স ৩০-৩২ বছরের বেশি না। পরনে লুঙ্গি আর শার্ট। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারকের উদ্দেশে তাকে বারবার বলতে দেখা যায়, আমি আবু সালেক না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।