বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
প্রকাশ : 2017-11-18

অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ: একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলন সফল হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে। সুনির্দিষ্ট ফলাফল নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক গোরিশন ইকিয়ারা বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ (একটি অঞ্চল একটি সড়ক) বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ ইস্তেহারে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ জোরদারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্যে এ সম্মেলন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্মেলনের অর্জনগুলোর অন্যতম হলো অংশ্রগহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বৃহৎ পরিসরে চুক্তি স্বাক্ষর। এতে বলা হয়, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ প্রকল্প বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পস্নাটফরম। এখানে বিশ্বের সকল দেশ অংশগ্রহণ করে ও অবদান রেখে সমান সুবিধা নিতে পারে। সম্মেলনে নীতিনির্ধারণ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জনসংযোগ— এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়। এসব বিষয়ে চীন সরকার মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, নেপাল ও ক্রোয়েশিয়া, মান্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলবেনিয়া, তিমোরল্যাস্তে (পূর্ব তিমুর), সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া সরকারের সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এ ছাড়াও চীন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব মেধাস্বত্বে সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে। নিয়ম অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প সহযোগিতা জোরদারে চীন উজবেকিস্তান, তুরস্ক ও বেলারুশের সাথে আন্তর্জাতিক পরিবহন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শিল্প বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে চীন পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, মঙ্গোলিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবাননসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের সাথে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সাধুবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। গ্রিক প্রেসিডেন্ট প্রকোপিস পাভলোপলোস এ সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য চীনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় পাভলোপলোস বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের গুরুত্ব সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রস্তাবিত অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাচীন সিল্ক রোড (রেশম সড়ক) ও নৌ-বাণিজ্যিক রুট বরাবর এশিয়াকে ইউরোপ ও আফ্রিকার সাথে যুক্ত করে বাণিজ্য ও পরিকাঠামো নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এর ফলে এ মেগা প্রকল্পে যুক্ত প্রতিটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে। গ্রিক নেতা বলেন, এ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়াকে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের সাথে যুক্ত করা। পাভলোপলোস বলেন, এ প্রেক্ষাপটে সম্মেলন চীনের অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের সফলতা সুনিশ্চিত এবং বিশ্ববাসীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবে। ইউক্রেনের ফার্স্ট উপ-প্রধানমন্ত্রী স্টি পান কুবিভ জোর দিয়ে বলেন, এ সম্মেলন সফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নতুন নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ইউক্রেনের যুক্ত থাকা এবং ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন প্রতিনিধিদল অবকাঠামো, পরিবহন, বেসামরিক বিমান পরিবহন শিল্প, লজিস্টিক ও যন্ত্র তৈরিতে সহযোগিতা জোরদারে চীনের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এদিকে পোল্যান্ডে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ান কংগ্রেসের চতুর্থ সংস্করণ শীর্ষক আলোচনা সভার ডেপুটি জিগনিউ অস্ট্রোস্কি বলেন, ‘নিউ সিল্ক রোড ধারণায় আমরা সকলে অনুপ্রাণিত।’ তিনি আরও বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ পোল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হতে পারে। সুতরাং, এ পদক্ষেপে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। তার প্রমাণ হচ্ছে বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বায়েতা জিদলোর উপস্থিতি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীন বিভাগের প্রধান রদোসলো ফ্লিসিউক বলেন, পোল্যান্ড অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া সকল দেশের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য এটি ইতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ ধারণা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।’