শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০
প্রকাশ : 2020-10-16

ভয়াবহ যানজটে গ্রাস হচ্ছে চট্টগ্রাম

১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভয়াবহ যানজটে গ্রাস হচ্ছে বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ক্রমশ অসহনীয় যানজটের কারণে কর্মব্যস্ত মানুষ দিবসের অনেকটুকু সময় হারিয়ে ফেলছে ট্রাফিক জ্যামে। নগরীর আগ্রাবাদ, স্টেশন রোড, জুবলী রোড, আন্দরকিল্লা মোড়, বক্সিরহাট, জিইসি মোড়, ষোলশহর ২নং গেট, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আতুরার ডিপো, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের কবলে আটকে পড়ে যানবাহনে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ঠাঁয় বসে থেকে বিরক্তিকর সময় কাটাতে হচ্ছে। ইদানীং নগরীর প্রধান-প্রধান সড়ক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অলি-গলিতেও তীব্র যানজটে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ফুটপাত দখল করে ফলের দোকান, রাস্তার অর্ধেকজুড়ে হকারদের পণ্যের পসরা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো, বিভিন্ন মার্কেট, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা আইন না মানার প্রবণতা, শ্লথ গতিসম্পন্ন রিক্সার আধিক্য, নিত্য-নতুন গাড়ি আমদানি, সড়ক বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং ট্রাফিক পুলিশের ইচ্ছাকৃত অবহেলাই যানজটের অন্যতম মূল কারণ। বিশেষ করে, মার্কেট সংলগ্ন সড়ক ও পার্শ্ববর্তী অলি-গলিতে প্রচন্ড রিক্সার ভিড় অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। নগরীতে রিক্সার আধিক্য দেখলে মনেই হয় না যে, এর নিয়ন্ত্রণে কেউ আছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৈধ রিকশার সংখ্যার তুলনায় অবৈধ রিকশার সংখ্যা তিন গুণ বেশি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তালিকাভুক্ত বৈধ রিকশার সংখ্যা মাত্র নয় হাজার ১২৪টি। আবার চসিকে নিবন্ধিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত এমন ৩০ হাজার রিকশা চলাচলের তথ্য দিয়েছে চসিক ও ট্রাফিক পুলিশ। তার ওপর আবার নগরীতে বাড়তি আরো ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা যোগ হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন বরাবরই রিক্সাকে যানজটের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করে এলেও রিক্সার সংখ্যা দিন-দিন বেড়েই চলছে। নগরীর নিউমার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, সেন্ট্রাল প্লাজা, মুরাদপুর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন মার্কেট এলাকাগুলোতে রিক্সার ভিড় অসহনীয়। এসব রিক্সাগুলোর চলাচলের নেই কোনো নির্ধারিত রাস্তা এবং বিধি-নিষেধ। ফলে এলোপাতাড়ি এই রিক্সার জটের কারণে হেঁটে পথচলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ফুটপাতে ত্রিপল টানিয়ে অথবা খুঁপরি ঘর তৈরি করে বা ভ্যানগাড়ীর সাড়ি করে হকাররা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতে-করতে তারা যেন অনেকটা ফুটপাতের মালিক বনে গেছে। অথচ প্রশাসন নীরব। এতে করে তারা দিন-দিন বেপরোয়া হয়ে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ওপর চলে আসতে শুরু করেছে। রাস্তার ওপর সাজানো শুরু করেছে পণ্যের পসরা। নতুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নগর সেবায় ক্যারাভ্যান কর্মসূচীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রাস্তা ফুটপাত দখলকারিদের কঠোর হুশিয়ারিও দিচ্ছেন। তবুও কোনো কিছুই যেন, তাদের রুখতে পারছে না। নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, অক্সিজেন মোড়, চকবাজারসহ নগরীর প্রতিটি এলাকার ফুটপাত ও সড়কজুড়ে ভ্যানগাড়ির সাড়ি দেখলে মনেই হয়না যে, এর নিয়ন্ত্রণে কেউ আছে। এসব রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও পরক্ষনেই তারা বসে যাচ্ছে। উচ্ছেদের পর যদি আবারও বসে যায়, তাহলে উচ্ছেদের হেতু কি? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। ভেস্তে যাচ্ছে চসিক প্রশাসকের ক্যারাভ্যান কর্মসূচী এমন মন্তব্য করেছেন, মুরাদপুর এলাকার ব্যবসায়ি আব্দুল জব্বার। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ব্যবসায়ি মিঠুন জানান, উচ্ছেদের পর তারা স্বদর্পে আবারো বসে গেছে, তাহলে উচ্ছেদের প্রয়োজন কি ছিল। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার এ অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনে এ মুহূর্ত থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর রূপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এমন আশঙ্কা সচেতন মহলের।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর