প্রকাশ : 2020-10-21

নজরদারিতে কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতারা,সিএমপিতে যুক্ত হচ্ছে- সেফ সিটি কনসেপ্ট

২১,অক্টোবর,বুধবার,মো. এনামুল হক লিটন,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম পুলিশ বাহিনীতে এবার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র ১৬টি থানার আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি তথা পুলিশের সাথে জনগণের দূরত্ব ঠেকাতে নতুন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে সেফ সিটি কনসেপ্ট অন্যতম। এছাড়া বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পাশাপাশি থানায় সেবার মান বৃদ্ধি ও থানাগুলোকে দালালমুক্ত করতে থানায় সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপণ করে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেন, জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অনেক কম হলেও সীমিত জনবল নিয়েই থানাগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধির নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সিএমপি কমিশনার সম্প্রতি নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এমন ঘোষনায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সফলতা মিলেছে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। অপরদিকে থানাগুলোতে সেবার মানও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ-কেউ। ইতিমধ্যে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্ব-স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে থানাগুলোতে লিগ্যাল ডেলিভারি সিস্টেম চালু ছিল। গতকাল সিএমপির বাকলিয়া, চাঁন্দগাও, চকবাজার ও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সরেজমিনে গিয়ে বেশকিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিচয় গোপন করে কৌশলে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা যায়, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লম্বা টানা সময় ডিউটি করতে গিয়ে তাদের অনেকটা মানসিক চাপের পাশাপাশি শারিরীকভাবেও দূর্বল হয়ে পরতে হয়। এছাড়া টানা ১২ ঘন্টা ডিউটি এবং আসা-যাওয়ায় আরো দুই ঘন্টা যোগ করলে, একজন পুলিশের ডিউটি গড়ে ১৪-১৬ ঘন্টা পর্যন্ত বর্তায়। পুলিশের এক সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ১২-১৪ ঘন্টা ডিউটিতো আছেই বাৎসরিক কোনো ছুটি পুলিশ বাহিনীতে নেই। অথচ বিডিআর, সেনা, নৌবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীতে বাৎসরিক তিন মাস ছুটি থাকে। এতকিছুর পরও আমাদের সেবা দেয়ার কাজটি চালিয়ে যেতে হয়। থানাগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পায়নি থানায় পুলিশ থাকার ব্রাকগুলোর মান। এখনো বিভিন্ন থানার ব্রাকগুলোতে পুলিশকে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, লম্বা টানা ডিউটি এবং ব্রাকে পুলিশ সদস্যদের গাদাগাদি করে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে পুলিশ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাদের প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কোনো জটিল সমস্যা দেখা দিলে সেই অসুস্থ পুলিশকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চমেকে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের নিজস্ব কোনো মেডিকেল কলেজ না থাকাতে এই বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। পুলিশের এসব অভ্যন্তরিন সমস্যা থাকার পরও নতুন সিএমপি কমিশনার যোগদানের পর থেকে সিএমপির প্রতিটি থানার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। থানাগুলোর আশপাশে সোর্স-দালালচক্রের শোরগোল অনেকটা কমে গেছে। এতে করে থানায় আগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সেবা প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে আসা রৌফাবাদ এলাকার ষাটর্ধো এক ব্যক্তি বলেন, জীবনের এই প্রথম থানায় আসলাম। পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি, কিন্তু থানায় এসে তা মনে হয়নি। থানার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, আমার থানায় সেবা প্রার্থী যে কেউ সরাসরি আমার কাছে আসতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ তথা অপরাধ দমন এবং অপরাধি গ্রেপ্তারে আমি সর্বদা প্রস্তুত। প্রসঙ্গত : বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ওসি প্রিটন সরকার যোগদানের পরথেকে থানার আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতির পাশাপাশি বেশকিছু অপরাধি গ্রেপ্তার, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার ও বিশেষ করে চলতি বছরের জুন মাসে বায়েজিদ বোস্তামী থানাসহ বিভিন্ন থানার ৯টি সিরিয়াল শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীকে সনাক্ত ও মামলার তথ্য উদঘাটন করেছেন। এ কারণে তিনি তৎকালিন সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে পূরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে নতুন সিএমপি কমিশনারের যোগদানে চট্টগ্রাম পুলিশ বাহিনীতে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। এতে করে জনমনে অনেকটা স্বস্থি ফিরে এসেছে। পুলিশের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হবে এমনটা মনে করছেন অভিজ্ঞ ও সচেতন মহল।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর