প্রকাশ : 2020-10-21

ঈদে মিলাদুন্নবী হয়ে উঠুক মুক্তির হাতিয়ার- সাহেনা আক্তার

২১,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯ অক্টোবর থেকে রবিউল আউয়াল মাসের গণনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের এই দিনেই নশ্বর পৃথিবীতে রহমতের ফুলগুধারা ও মুক্তির দূত হয়ে আসা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনোপলক্ষ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আমরা ধর্মপ্রাণ-মুসলিম উম্মাহ ও নবীপ্রেমী মানুষ পালন করি পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী। এদিনে নবীপ্রেমে মোহিত আমাদের কন্ঠ গেয়ে ওঠে মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে ওয়ালা, তুমি বাদশাহর বাদশা, কামলি ওয়ালা। জানাই হাজার সালাম, মোস্তফা জানে রহমত, পে-লাখো সালাম। শময়ে বয্মে হেদায়াত পে-লাখো সালাম। পবিত্র এ দিনেই আমাদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র ওফাত দিবস। ৬৩ বছর বয়সের এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। চৌদ্দ শত বছর পূর্বে ৫শ ৭০ খৃষ্টাব্দের এ দিনেই সুব্হে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোলে আসেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী (দ.) এই ধরাকে আলোকিত করে। তিঁনি বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী নবী কুলের শিরোমণি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)। তাইতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে। তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ। তিনি মুসলিম উম্মাহ তথা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কল্যাণ ও রহমত স্বরূপ। যার গুন ও মহিমা গাঁথা এ বিশ্বের শেষ দিন পর্যন্ত লক্ষ কোটি অযুত-নিযুত প্রাণে প্রতিটি মূহূর্তে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরবে। জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী ২০২০ হবে প্রাচীন ধারাবাহিকতায় ৪৭ তম মিলাদুন্নবী। মহান ও মহামান্বিত এই দিনটিতে নবীপ্রেমী লাখো-লাখো জনতা ঈমানী উদ্দীপনায় জেগে ওঠে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার, নারায়ে রেসালাত ইয়া রাসুল্লাহ, নারায়ে গাউসিয়া ইয়া গাউসুল আযম দস্তগীর (রাহ.) শাহেন শাহ সিরিকোট শ্লোগানে মুখরিত ধ্বণির মাধ্যমে আওলাদে রাসুলকে সামনে রেখে প্রিয় নবী (দ.)র প্রতি তাজিম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীতে চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে দলে-দলে ক্লান্তিহীন পাঁয়ে হেঁটে এবং যানবাহনের মাধ্যমে উৎসব মূখর আনন্দঘন পরিবেশে হামদ্, নাত, দুরুদ শরীফ, ধর্মীয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে লাখো মুসলিম জনতা আওলাদে রাসুল সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহর (মু.জি.আ.) নেতৃত্বে নবীর প্রতি মহব্বত-শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাজিমের উদ্দেশ্যে ছুটে আসবে। হাতে থাকবে বর্ণাঢ্য ফেস্টুন ও প্লাকার্ড। আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠবে চারপাশ। বর্ণনাতীত এমন মুসলিম জনসমুদ্র দেখে মনে হবে যেন আসমান হতে জমিনে ফেরেস্তারাই নেমে এসেছে পবিত্র মিলাদুন্নবীর প্রিয় নবী-শ্রেষ্ঠ নবীর জন্নদিন আনন্দে শরীক হতে। যে নবীকে কেন্দ্র করেই এত সবকিছুর সৃষ্টি। যে নবীকে উদ্দেশ্য করে সৃষ্টিকর্তা পরম করুনাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, আমি যদি মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করতাম, তবে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না। আর সৃষ্টি করতাম না জান্নাত ও জাহান্নাম। এবং আল্লাহর রাসূল (স:) ইরশাদ করেছেন, আমি তখনও নবী ছিলাম, যখন আদম (আ:) ছিলেন রুহ এবং দেহের মধ্যে (মুসনাদ আহমদ)। পবিত্র জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীর মত ধর্মীয় কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে মুসলিম জমানের সংস্কারের মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা অবদান রেখে গেছেন মুর্শিদে কেবলা আওলাদে রাসূল হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ্। ১৯৭৪ সালে ১২ রবিউল আউয়াল এ জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করার জন্য গাউসে জামান মুজাদ্দিদে জমান রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত, হাদীয়ে দ্বীনো মিল্লাত, আওলাদে রাসূল, হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, চট্টগ্রামের বলুয়ার দীঘিরপাড়স্থ খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব নুর মুহাম্মদ সওদাগর আল কাদেরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) কে। তাঁর নেতৃত্বেই বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে জামায়েত হয়ে আলোচনা, মিলাদ-মাহফিল ও আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে পালিত হয় জশনে জুলুছে পবিত্র ঈদ-এ-মিলদুন্নবী। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট ও শান্তির ধর্ম ইসলাম ধর্ম। ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দ্বীন বা আদর্শ ব্যবস্থা। বিপথগামী মানুষের হেদায়াতের জন্যই আল্লাহ মহামানব বা পয়গম্বর মানে আল্লাহর রাসুল প্রেরণ করেছেন। এবং বান্দাদের হেদায়াতের জন্য পয়গম্বরদের উপর নাযিল করেছেন আল্লাহর বাণী বা আসমানী কিতাব। আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআনের দুটি আয়াতে উল্লেখ আছে, (১) তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে, যেদিন সে মৃত্যুবরণ করে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। (২) আমার জন্নদিনে আমার উপর সালাম বর্ষিত হোক, সালাম বর্ষিত হোক যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করবো, আর সালাম বর্ষিত হোক, যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো। সুতরাং জন্মদিবসে সালাম পাঠ করা যেমন আল্লাহর সুন্নত, তেমনি নবীর সুন্নত। কিন্তু দু:খজনক সত্য এই যে, যে নবী বিশ্বমানবের জন্য চিরশান্তির ও নাজাতের পয়গাম বহন করে এনেছেন সেই নবীর প্রতি প্রেম নিবেদন, নবীর জন্ম-মৃত্যু দিবসে নবীকে স্মরণ করাসহ নবীর প্রতি সালাম, দুরুদ প্রেরণ ও শ্রদ্ধা নিবদনে একশ্রেণীর নবী বিদ্বেষী মহল জশনে জুলুছের বিরোধীতা করেন। অথচ জুলুশের গুরুত্ব বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন আর উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই তো স্বাধীনতা উত্তর এই বাংলাদেশ তথা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আওলাদে রাসুল হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ জশনে জুলুশের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। কেননা আমাদের প্রিয় নবী সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর