সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-10-27

চসিক নির্বাচন : সক্রিয় আওয়ামী লীগ, নিস্ক্রিয় বিএনপি

২৭,অক্টোবর,মঙ্গলবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠলেও বিএনপির প্রার্থীদের কোনো তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। করোনাকালিন সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ-নিজ এলাকায় উপহার সামগ্রী (ত্রাণ) বিতরণে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও প্রতিযোগীতা মূলকভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছিলেন। পিছিয়ে ছিলেন না সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। ওইসময়ে বিএনপির প্রাথীরা ত্রানকার্যে অংশগ্রহণ করলেও সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তারা সরকারের সমালোচনায় বেশী ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামে লকডাউন তুলে ফেলা হলে, কিছুদিন প্রার্থীরা বিশ্রামে থেকে কর্মিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চললেও এখন অনেকটা সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে শারদীয় দূর্গোৎসবে প্রতিটি পূজা মন্ডপে গিয়ে মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের মন জয় করার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। তবে মন্ডপগুলোতে দলীয় মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর পাশাপাশি সাবেক এবং মনোনয়ন না পাওয়া কাউন্সিলরদের উপস্থিতি বেশী লক্ষ্য করা গেছে। শুধু তাই নয়, মনোনয়ন না পাওয়া এবং সাবেক কাউন্সিলররা সরাসরি দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চেীধুরীর পক্ষে প্রচারণা চালাতেও দেখা গেছে। গত শনিবার চসিক ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আসন্ন চসিক নির্বাচনে আবারো কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ শাহেদ ইকবাল বাবু ওয়ার্ডের পূজামন্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে বস্ত্র বিতরণ করে। ওই সময়ে তিনি আধুনিক, সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়তে মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান। এ প্রসঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, এম রেজাউল করিম চৌধুরী একজন সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত লোক তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে, চট্টগ্রামের ব্যাপক উন্নয়ণ সাধিত হবে। অপরদিকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং তাঁর ঝাঁঝালো বক্তব্যগুলো ভোটারদের মন কাড়ছে। বিশেষ করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে, নগরবাসীর উপর হোল্ডিং ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেবেন না এমন প্রতিশ্রতি নগরবাসীকে আকৃষ্ট করেছে বেশী। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দৃশ্যমান তৎপরতা নয়, আমি অবশ্যই কাজ করবো এবং একটি আধুনিক, সুন্দর, সন্ত্রাসমুক্ত, সমৃদ্ধশালী ও স্বপ্নের চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে কাজ করে যাবো। সবমলিয়ে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পুরোপুরি প্রস্তুত এমন অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে কোনো তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাৎ হোসেন দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনী প্রচারণা থেকে অনেকটা বিরত রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাৎ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। নগর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু মুছা এ প্রতিবেদক এনামুল হক লিটনকে বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস চলাকালিন সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জনগণের মাঝে যেভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের পাশে বিএনপি দাড়িঁয়েছে ঠিক এখন পর্যন্ত বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন দুর্যোগ মুহুর্ত সময়ে জনগণের পাশে রয়েছে। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তিনি সন্দিহান প্রকাশ করে সরকার এবারও আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনে মেতে উঠেছে এ কারণেই বিএনপি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় করছেনা বলে মন্তব্য করেন। এদিকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং এবার মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক কাউন্সিলর যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তারা ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ে চলতি বছরের ১ জুন ইসি সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে ২৯ মার্চের চসিকের সাধারণ নির্বাচনসহ যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রদত্ত নব্বই দিন সময় পার হয়ে গেছে। গত ফেব্রয়ারিতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পেরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের একেবারের কাছাকাছি সময়ে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারনে নির্বাচন কমিশন চসিক নির্বাচন স্থগিত করেন। পরবর্তীতে চসিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন। তিনি ১৮০দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কবে নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এনিয়ে এখনও কোনো আভাস পাওয়া না গেলেও আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের কারণে হতাশ হচ্চেন না প্রার্থীরা। মনোনয়ন বঞ্চিত অনেক সাবেক কাউন্সিলররা মনে করেন এবারের নির্বাচন সুষ্ঠ হবে এবং সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, তাঁরা আবারো নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর