রবিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২১
প্রকাশ : 2020-11-07

কনটেইনার ইয়ার্ডের সক্ষমতা ৪ লাখে নিতে চায় কর্তৃপক্ষ

০৭নভেম্বর,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে মোংলা সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। এর অংশ হিসেবে ১ লাখ (২০ ফুটের কনটেইনার) একক সক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার ইয়ার্ডকে সম্প্রসারণ করে চার লাখে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, এর ফলে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ার সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। মোংলা বন্দরের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক এক লাখ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের। তবে প্রতি বছর সক্ষমতার অর্ধেকই অব্যবহূত থাকে। বন্দরের ব্যবহূত সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানেও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৯৫২ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৯৮৯ একক এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ হাজার ৭৩৫ এককে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্রতি বছর কনটেইনারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সাইফ পাওয়ার পোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে এক লাখ একক ক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ২০১৯ সালে জুলাইয়ে শুরু করে প্রায় ১৫ শতাংশ কাজ হওয়ার পর করোনার থাবায় থমকে যায় নির্মাণকাজ। বর্তমানে কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণের কাজ পুরোদমে চলছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুনে ইয়ার্ডটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। এছাড়া বন্দরের নিজস্ব উদ্যোগে আরো দুই লাখ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কাজ শেষ হলে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডরিং, শ্রমিকসহ বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে, যা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিপিং এজেন্ট নুরুল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এইচএম দুলাল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, একসময় বন্দরের সক্ষমতা ছিল না। ফলে বন্দরে জাহাজ কম আসত। বন্দর ব্যবহারকারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডরিং, শিপিং এজেন্ট ও শ্রমিকদের অলস সময় কাটাতে হতো। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কনটেইনার ইয়ার্ডের সক্ষমতা চার লাখ এককে পৌঁছালে আমাদের কর্মচাঞ্চল্য আরো বৃদ্ধি পাবে। সার্বিক বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, আমরা প্রতিদিনই বন্দরের উন্নয়নে কাজ করছি। বিগত বছরগুলোর থেকে এ বছর বন্দরে অনেক বেশি জাহাজ এসেছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংও বেশি হয়েছে। পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ হলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বেশকিছু বাণিজ্যিক অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন মজবুত হবে। ফলে বন্দরে আরো বেশি জাহাজ আসবে। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজ করছি। এর অংশ হিসেবে কনটেইনার ইয়ার্ডকে এক লাখ একক ক্ষমতাসম্পন্ন থেকে চার লাখে নিতে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বন্দরের জাহাজ আসার জন্য চ্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধির জন্যও আমাদের কাজ চলছে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর