প্রকাশ : 2020-11-16

সাইবার ক্রাইম, দুষ্টচক্র নির্মূল করতে হবে: মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার

১৬নভেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমাদের সমাজে বর্তমানে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তার মূলে রয়েছে ফেসবুক হয়রানি। ফেসবুক হয়রানি এখন মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপর্যূপরি এসব হয়রানির ঘটনায় নারী-পুরুষ সর্বত্রই বিশেষ করে অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে চরম উৎকন্ঠা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদাসীনতার কারণে দিন-দিন এ হয়রানির মাত্রা বাড়ছে ভয় কমছে না। একশ্রেণীর সমাজ বিরোধি ও দুষ্টচক্রের দল ইন্টারনেট, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ওয়েবসাইটে বেনামি একাউন্ট ব্যবহার করে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজ পড়-য়া ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি, ক্ষেত্রবিশেষে ভিডিও ক্লিপসসহ বিদ্বেষমূলক নানা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে বিস্তর তথ্য ছাপা হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তবুও নিয়োজিত সংস্থা এর প্রতিকারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। এ যেন চলছে এবং চলতেই থাকবে। অবস্থাদৃষ্টে মনেই হয় না আমরা আদৌ কোনো সুস্থ সভ্য সমাজে বাস করছি। চারদিকে অজস্র আলো- সূর্যের ও বিজলি বাতির, জ্ঞানবিজ্ঞান ও সভ্যতার, মনন ও অগ্রসরতার। তবুও আমরা নিয়ত অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছি। জীবনানন্দ দাশের সেই অদ্ভুত আধার এক আমাদের বেপথু করছে; অসভ্য জঙ্গলি এক মধ্যযুগীয় বর্বরতায় মানুষ নামের জীবশ্রেষ্ঠ গর্বিত সত্তাকে ক্রমাগত অমানুষে পরিনত করছে যেন। আমরা এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে রাত-দিন অতিক্রান্ত করছি। বলাবাহুল্য যে, সাইবার ক্রাইমে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিই কম-বেশি শিক্ষিত। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষন করলে এটাই পরিস্কার বোঝা যায় যে ইন্টারনেট হয়রানির কারণে পরিবারে এবং সামাজিক জীবনে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে দেশের এক-তৃতীয়াংশ নারীকে। সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক খুললেই দেখা যায় নারীদের নিয়ে নানা আপত্তিকর ছবি ও তথ্য ছড়ানো। এছাড়া ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে কথিত প্রেমিকের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেক মেয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। আবার দেখা যায় কেউ-কেউ কৌশলে কিংবা প্রেমের অভিনয় করে মোবাইলে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে সেই মেয়েটিরই নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে নানা আবেদন-নিবেদন তুলে ধরছে। অথচ ওই মেয়েটি এর কিছুই জানে না। এসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অনৈতিক কর্মকান্ড করা হচ্ছে। এ নিয়ে অতীতে পত্রিকাগুলোয় বিস্তর লেখা ছাপা হয়েছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। সাইবার জগতে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোয় নারীদের হয়রানির ঘটনা যে ক্রমে বাড়ছে- বিটিআরসি গঠিত বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমে (বিডিসিএসআইআরটি)-তে বিভিন্ন সাম্প্রতিক সময়ে জমা পড়া বেশকিছু অভিযোগই তার প্রমান। বর্তমান আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশে বিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত নানা সুবিধা যখন মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছছে, ঠিক তখনি তা যেন বুমেরাং হয়ে ফিরে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে অভিশাপ হয়ে। ব্যাপক তথ্য অনুসন্ধান মতে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি বিডিসিএসআইআরটি সেল গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ায় এমন সাইটসহ আরো কিছু সাইটের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ওই সময়ে বেশকিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারলেও ফেসবুকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে নি। সবমিলিয়ে বুঝা যাচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভালো দিকগুলোকে কাজে না লাগিয়ে একটি দুষ্টচক্র ব্যবহারে কারচুপির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে একরকম অভিশাপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম এতটাই বেড়ে গেছে যে নরম হাতে এদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে। সম্ভবত নিয়োজিত সংস্থা অবস্থা আঁচ করতে পেরে বেশ কয়েক বছর পূর্বে একটি গোয়েন্দা সংস্থারও সহযোগীতা নিয়েছিল। ওই সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অভিযোগের কিছুটা সুরাহা হলেও নারীদের নিয়ে যৌন হয়রানির মতো ঘৃণ্য ও জঘন্যতম বিষয়গুলোর আশানুরুপ ফল পাওয়া য়ায় নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, যেসব ভূয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি, তথ্য ও বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হলেও তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওই দুষ্টচক্র আবার নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলে একই কাজ করে যাচ্ছে। আবার বৈধ অ্যাকাউন্ট ধারিরাও তাদেরই বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে ফেসবুক বা ফেসবুকের গ্রুপের মাধ্যমে যে অশ্লীল কথাবার্তা এবং আপত্তিকর ছবি শেয়ার করছে তা চোখে পড়লে, যে কাউকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। তাই আমরা চাই সুস্থ-সভ্য ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনতিবিলম্বে সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত এই দুষ্টচক্রকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা হোক।- লেখকদ্বয় : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর