শনিবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২১
প্রকাশ : 2020-11-24

পত্রিকা পাড়ার আব্দুল গণি: সাহেনা আক্তার হেনা

২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চেরাগী পাহাড়ের আব্দুল গণি। খুবই পরিচিত একটি নাম। লেখক-সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, গবেষক-সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ সবাই তাকে এক নামেই চিনেন যুগ-যুগ ধরে। প্রায় ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে- বোয়ালখালীর গণি ষ্টোর নামের স্টলের মাধ্যমে পত্রিকা বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের পত্রিকা পাড়াখ্যাত চেরাগি পাহাড়ের আব্দুল গণি। দীর্ঘ ৩৭ বছর একটি মাত্র পেশায় জড়িত থাকা সদা হাস্যোজ্জল আব্দুল গণি স্বাবলম্বী হতে না পারলেও কোনো রকম স্ত্রী সন্তান নিয়ে এই ব্যবসার মাধ্যমে মোটামুটি ভালোভাবে জীবন যাপন করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল গণি বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার মৃত আব্দুল সালাম সওদাগরের পুত্র। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আব্দুল গণি ছিলেন বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও দারিদ্র্যের যাতাকলে পড়ে বেশীদূর এগোতে পারেন নি। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়াকে সম্বল করেই নেমে যান জীবন সংগ্রামে। ফড়িং ধরা, মাছ ধরা, পুকুরে সাতাঁর কাটা, হা-ডু-ডু, ফুটবল খেলা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়াসহ শৈশবের কোনোকিছুই তাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি। অভাব-অনটনের আলিঙ্গনে কখনো দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার মতো শৈশব-কৈশোরের আনন্দ উচ্ছ্ল দিন তাঁর জীবনে যেন অধরা স্বপ্ন। বর্তমানে পত্রিকা বিক্রির মাধ্যমে মোটামুটি সচল হয়ে উঠা জীবনের কিছু আনন্দ স্বপ্ন দেখায় তাঁর বেঁচে থাকার। তিনি ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিন পুত্র সন্তান নিয়ে বিত্তের প্রাচুর্য না থাকলেও বর্তমানে অভাবহীন সুখী-সুন্দর পরিবার তার। নিজে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও ছেলেদের মোটামুটিভাবে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। তবে আব্দুল গণির এই ব্যবসায় সহযোগিতা করে তার দ্বিতীয় মো. পুত্র আরিফ। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে ৩ থেকে ৫ শত টাকা আয় করা যায় বলে জানান তিনি। আব্দুল গণি এক সময় অত্যন্ত দারিদ্রতার যাতাকলে থাকলেও সম্পুর্ন নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে বর্তমানে উঠে এসেছেন এ পর্যায়ে। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় তিনি কারো সাহায্য পান নি বললেই চলে। ছোট বড় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক বা যেকোন ম্যাগাজিনসহ সব ধরনের পত্র-পত্রিকা পাওয়া যায় তার ছোট্ট পরিসরের পসরায়। কাক ডাকা ভোর হতে রাত পর্যন্ত লেখক-পাঠক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ক্রেতাসহ পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলের আনাগোনা থাকে তার পসরায়। সব ধরনের পত্রিকা তার দোকানে পাওয়া যায় বলে পাঠকরা এখানে পত্রিকা ক্রয় ছাড়াও পড়ার জন্য ভীড় জমায়। এতে তিনি বা তার পুত্র একটুও বিরক্তবোধ করেন না। পাঠকদের মন জয় করতে পারাতেই যেন তার আনন্দ। বোয়ালখালীর এই গণি ষ্টোরে পাওয়া যায় বহুদিন-বছর আগের পূরনো পত্রিকাও। আর এতে করে সকলের সাথে তার গড়ে উঠেছে নিবিড় এক বন্ধনের সম্পর্ক। সবসময় চেহারায় স্বভাব সুলভ লাবন্য মাখা সদা হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল গণিকে সকলে গনি ভাই বলেই ডাকে। চেরাগী পাহাড় এলাকার পত্রিকা বিক্রেতা এক নামে পরিচিত গনি ভাই, সকলের কাছেই অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তবে গনি জানান, পারিবারিক সূত্রে আামার নামের পরে সওদাগর টাইটেল আছে। আমার পিতার নাম ছিল আব্দুল সালাম সওদাগর। তবে গনি ভাই হিসাবেই তিনি সকলের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পত্রিকা বিক্রির এই ব্যবসাটা যদি আরেকটু প্রসার করা যেত তাহলে ভালো লাগতো। তবে এর জন্য বেশকিছু পুঁজির প্রয়োজন যা তার নেই। তার শেষ ইচ্ছে পত্রিকার স্টলটি কারেন্ট বুক সেন্টারের মতো বড় পরিসরে করার। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ঢাকার পত্রিকা ছাড়াও চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলোসহ অন্যান্য সব ধরনের বইগুলো এখানে বেশী চলে। তিনি তার ছোট্ট এ ইচ্ছে পুরণে সমাজের বিত্তবান বা সরকারি কোন সংস্থার সুদৃষ্টি কামনা করছেন। তার এমন সৎ ও কর্মমুখী সদইচ্ছা পূরণে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।- লেখক : সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর