রবিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২১
প্রকাশ : 2021-01-10

নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে না পারলে জাতি অসুস্থ ও মেধাশূণ্য হয়ে পড়বে- চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

১০,জানুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এনডিসি বলেছেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে নিরাপদ খাবারের বিকল্প নেই। নিরাপদ খাবার নিয়ে সচেতনতার বিষয়ে আমরা এখনো শূণ্যের কোটায়। যে খাবার খেলে মানুষ অসুস্থ হবেনা সেটাই নিরাপদ খাবার। শাক-সব্জি, ফলমুলসহ অন্যান্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে না পারলে জাতি অসুস্থ ও মেধাশূণ্য হয়ে পড়বে। আমরা প্রতিদিন যে খাবারগুলো খাচ্ছি সেগুলো কতটুকু পুষ্টিকর ও নিরাপদ তা আগে জানতে হবে। ভেজাল খাবার মানবদেহ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রতিনিয়ত ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ ক্যান্সারসহ অন্যান্য জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে শুধু আইন ও মোবাইল কোর্ট দিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনিরাপদ খাবারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাবার অবশ্যই প্রয়োজন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আজ ১০ জানুয়ারী ২০২১ ইংরেজি রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত- খাদ্যের নিরাপদতা শীর্ষক বিভাগীয় পর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সেমিনারের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারাদেশে খাদ্যের মান বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে নিরাপদ খাবার উপহার দেয়া সম্ভব নয়, এটির জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। ভেজাল খাবার খেলে কি হবে তা আমরা ও আমাদের সন্তানদেরকে জানতে হবে। খাবার উৎপাদন বা তৈরীকালে ভেজাল দ্রব্য না মেশানোর বিষয়ে শ্রমিকরা সচেতন হলে আমরা বিষমুক্ত খাবার পেতে পারি। মানব ধ্বংসকারী ভেজাল খাবার আমরা বর্জন করবো। সকলেই সুস্থ থাকতে হলে নিরাপদ খাদ্যাভাস গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুল কাইউম বলেন, দুষিত ও অনিরাপদ খাবার আমাদেরকে সবসময় অসুস্থ করে তুলছে। ভেজাল খাবার মানবদেহ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নানান ধরনের কেমিকেল মেশানো ও চকচকে দৃষ্টিনন্দন খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া যাবেনা। রাস্তা-ঘাটে নোংরা পরিবেশে তৈরী করা খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। নিজেরা সচেতন হয়ে পরিবারকে সচেতন করতে হবে। নিরাপদ খাদ্যে যারা ভেজাল মেশাবে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন,২০১৩ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। নানান ধরনের কেমিকেল, ফরমালিন মেশানো ও চকচকে দৃষ্টিনন্দন খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া যাবেনা। রাস্তা-ঘাটে নোংরা পরিবেশে তৈরী করা খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য অফিসার নাজমুস সুলতানা সীমার সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুল কাইউম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক (মান) আবু সাঈদ মোঃ নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল আলীম। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয়ের অনুজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জুবাইদুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক নুসরাত সুলতানা, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) ড. বদিউল আলম, সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাসান, ক্যাবর সভাপতি এস.এম নাজের হোসাইন, রাউজান পৌর মেয়র দেবাশীষ পালিত ও বনফুল গ্রুপের পরিচালক আরিফুল ইসলাম প্রমূখ। সেমিনারে সরকারের বিভিন্নস্তরে কর্মরত কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ক্যাব, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর