প্রকাশ : 2021-01-14

আইয়ুব বাবুলের অঙ্গিকার পটিয়া পৌরসভার মেয়র হবে জনতার

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,সৃজন দত্ত,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আইয়ুব বাবুল মৃত্যু্ঞ্জয়ী ছাত্রনেতা।বীর প্রীতিলতার পটিয়ায় ছাত্রলীগের ৮৫-৯০ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৯০ সালে স্বৈরচ্চার এরশাদ ও ৯৬ সালে বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আইয়ুব বাবুলের ভুমিকা অতুলনীয়। যার ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার মুখ দেখে। রাত দিন লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচার করে আইয়ুবদের উপর ষ্টিম রোলার চালায় যা ইতিহাসের অংশ।সেই ৮০ /৯০ এর দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে আইয়ুব বাবুলের ত্যাগ আর তিতিক্ষার করতে হয়।আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমান মাষ্টারের ছত্রছায়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ থেকে ৮৫ সালে পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি,উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও এক সময়ে ১৯৯৩ সালের দিকে (মাঈনু - ইকবাল ) কমিটি অনুমোদিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।দীর্ঘদিন শাপলা কুড়ির আসর ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে হাজারো নেতার কারিগর ছিলেন আইয়ুব বাবুল। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে পটিয়া গড়ে তুলছে হাজার হাজার নেতা কর্মী যা নতুন প্রজন্মের জন্য আর্শীবাদ।দীর্ঘদিন পদ বঞ্চিত হওয়ার পর ২০১৪ সালের দিকে পটিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।তারপরে একসময় পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক হতে চাইলে তার জন্য টাকা আর ক্ষমতা নিকট পরাজিত হয়ে পদ বঞ্চিত হয়।দমে থাকার লোক নয় বলে আদর্শিক ও পরিক্ষীত যোদ্ধা প্রিয় আইয়ুব বাবুল আবারও গতির সঞ্চয় করে রাজনীতি করে যায় শেষমেষ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে কোনমতে কমিটিতে রাখা হয়।৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হিসাবে কঠিন দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন।তার পরিবারের ভুমিকা অতুলনীয় এমনকি তার শ্রদ্ধেয় চাচা বিএলএফ ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন ও ফুফাতো ভাই সাংবাদিক জালাল উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের সময় থানার ইনচার্জ এর দায়িত্ব পালন করে বলে তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ পরিবার হিসেবে পরিচিত। এমনকি সাতকানিয়া,লোহাগড়া, চন্দনাইশ,বোয়ালাখালী,আনোয়ারা,বাশখালী উপজেলায় ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন ভালো পদবী বা জনপ্রতিনিধির তকমা। আদর্শিক ও পরিক্ষীত সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও আর কখনো ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে আইয়ুব বাবুলের নিকট কোন ভালো পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভায় মেয়র বা জনপ্রতিনিধির কোন কিছুই জুটল না।জেলার নেতারা তালিকায় তার নাম তিন নম্বরে দিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পাবে কিনা তার সংশয় রয়েছে।১ম শ্রেণির পটিয়া পৌরসভা চট্রগ্রাম জেলার মধ্যে অন্যতম ।ইতিহাস আর ঐতিহ্য শিল্প এলাকা হিসাবে সুপরিচিত। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির আদর্শ,জেল জুলুম ত্যাগের কথা তুলে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দুঃসময়ের রাজনীতির নায়ক আইয়ুব বাবুল।নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দিয়ে দলের দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে মুল্যায়ন করায় ত্যাগী নেতা আর দলের লাভ হবে তা শতভাগ নিশ্চিত। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের মুল্যায়ন করায় আবারো প্রমানিত হলো দল ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন করছে যা সকলের দাবী ছিলো ।তার কাছে তেমন কোন কিছুই নেই।দলের জন্য আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। তবুও শেষ বারের নেত্রী এই ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জননেত্রী বঙ্গকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ মনোনয়ন বোর্ডের সকল সদস্যদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।সঠিক সময়ে যোগ্য বেক্তীর মূল্যায়ন হলো।আইয়ুব বাবুলের অঙ্গিকার পটিয়ার পৌরসভার মেয়র হবে জনতার। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর