প্রকাশ : 2021-01-31

বিবেকবোধের আলোকিত বিবর্তনে- ইত্যাদি

৩১,জানুয়ারী,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এই যুগটা বেশ প্রতিযোগিতামূলক। মুঠোফোনের কল্যাণে হাতের মুঠোয় বিনোদনের দুনিয়া। দর্শক সহজেই দেখতে পারেন বিশ্বের বাঘা বাঘা নির্মাতাদের নির্মাণ। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে নির্মাতাদের মেধাবী হতে হয়। জানতে হয় কৌশল। থাকতে হয় বিষয় বৈচিত্র্য। আর দীর্ঘদিন ধরে এই কাজটি করে চলেছেন বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত। কীভাবে দর্শকদের টিভি পর্দায় আটকে রাখা যায় এ কৌশলটা ভালোই জানেন তিনি। যে কারণে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টিআরপিসহ নানা জরিপে- ইত্যাদি সেরার আসনটি দখল করে আসছে। সমসাময়িক বিষয়ের ওপর এক ডজন মজার নাট্যাংশ, দুটি গান আর ৭টি প্রতিবেদন দিয়ে সাজানো হয়েছিল এবারের- ইত্যাদি। প্রতিটি পর্বই ছিল শিক্ষামূলক ও বক্তব্যধর্মী। নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠার এত বছর পর দর্শক এই বাহিনী সম্পর্কে কিছু জানতে পারলো ইত্যাদির মাধ্যমে। বিশেষ করে সাবমেরিন, যুদ্ধ জাহাজ, জাহাজের অধিনায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ছিল রোমাঞ্চকর। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির এই সুন্দর রূপও দর্শকরা ইতিপূর্বে দেখেনি। এ ছাড়া রবি চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট সাদিয়ার দেশাত্মবোধক গানটিও ছিল উদ্দীপনামূলক। প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সাগর পাড়ে হানিফ সংকেতের নৃত্য চিত্রায়ণও ছিল শৈল্পিক। এবারের পর্বের প্রতিটি নাট্যাংশই ছিল বক্তব্যধর্মী। মাস্ক নিয়ে সমসাময়িক অসঙ্গতি, টিকটক না করে ঠিকটক করার যথার্থ বক্তব্য, পিঠা নিয়ে টকশো-পিঠা তুমি কোথায়? ২ শব্দটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দুই নম্বর বলা, নানা-নাতির রসালো অথচ সামাজিক সচেতনতামূলক বক্তব্য, দেশের সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাসহ প্রতিটি নাট্যাংশই ছিল সরস অথচ বক্তব্যধর্মী। ভালো লেগেছে ৭১ বছর বয়স্ক হেলাল উদ্দিনের পর্বটি, যিনি প্রতিশ্রুতি দেন না, তার প্রতিশ্রুতি মানুষকে কর্মপ্রেরণা দেয়। অনেক সচল এবং সবল ব্যক্তিকেও যেভাবে অলস সময় কাটাতে দেখা যায় সেখানে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি বাজার একা নিজ হাতে পরিষ্কার করার বিষয়টি অনুসরণীয়। গ্রিসের প্রতিবেদনটি ছিল অসাধারণ। ইত্যাদির মাধ্যমে দর্শক দার্শনিক সক্রেটিসের সমাধিস্থল দেখতে পেলো। নৈতিক স্কুলও ছিল শিক্ষামূলক পর্ব। মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক সালেহউদ্দিনের দেখাদেখি অন্যরাও যদি নিজেদের নৈতিকতার আদর্শে শুধরে নেয় তবেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা যাবে। ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী প্রয়াত আবদুল কাদেরের স্মৃতিচারণ ছিল বেদনাদায়ক। দিনমজুর লেখক-প্রকাশক হাসান পারভেজের আন্ধারমানিক পত্রিকার প্রতিবেদনটি ছিল হৃদয়স্পর্শী। তার স্ত্রীর কথায় অনেকেরই চোখ ভিজে গেছে। হাতে লিখে সফলতার গল্প বলে তিনি মানুষকে ভালো কাজের চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করেন। হাসান পারভেজকে দুই লাখ টাকা প্রদান করে কেয়া কসমেটিকস। এমনই অনেক ভালো কাজের মাধ্যমে ইত্যাদি বছরের পর বছর বিবেকবোধের আলোকিত বিবর্তন করেই চলেছে।