প্রকাশ : 2018-04-15

সরকারি চাকরিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়োগ বন্ধের দাবি ও ৬ দফা ঘোষণা

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি চাকরিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়োগ বন্ধের দাবিতে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের গণজমায়েত থেকে এই ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রায় দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে এই গণজমায়েত করা হয়। ৬ দফা দাবি হলো ১) কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ২) জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে। ৩) জামায়াত- শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারের সরকারবিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ৪) যুদ্ধাপরাধীদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ৫) ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্র, যুবক শিশু নারীসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল গঠন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৬) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্নকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে হলোকাস্ট বা জেনোসাইড ডিনায়েল এর আদলে আইন প্রণয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে নৌমন্ত্রী প্রায় দেঢ় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচিগুলো হল আগামী ১৮ এপ্রিল (বুধবার) দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় পরিষদের ৬ দফা দাবির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান; ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় গণসংযোগ; ২২ এপ্রিল সকাল ১০টায় ঢাকায় সকল মহানগর জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রতিনিধি সভা; ৩০ এপ্রিল বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সকল সংগঠন ও সকল স্তরের জনতার এক মহাসমাবেশ; ৫ মে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক আশিবুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম সুলতান আহমেদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান এবং এডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয় প্রমুখ। এতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

রাজনীতি পাতার আরো খবর