সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১
প্রকাশ : 2021-02-23

কাজের মান নিয়ে কাউন্সিলরদের সম্মতি মন্তব্য ছাড়া ঠিকাদাররা বিল পাবেন না - চসিক মেয়র

২৩,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদ একটি যৌথ পরিবার। একে অপরকে জানতে হবে, বুঝতে হবে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সমস্যা আছে এবং থাকবেই। মেধা,দক্ষতা,সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। নগরবাসী আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ পরিষদের প্রথম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সমস্যার মাঝে নানাবিধ প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে যদি ১২ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে পারেন, তা হলে আমরা কেন আমাদের মেয়াদকালীন সময়ে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত অত্যাধুনিক বিশ্বমানের নগরীতে পরিণত করতে পারবো না বলে মন্তব্য করনে ময়ের। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এখন যা আছে তা নিয়েই যাত্রা শুরু করে দিয়েছি। প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিক জরুরি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর পর দু দিন মশকনিধন, পরিচ্ছন্নতাসহ জরুরি সেবামূলক কার্যক্রম চলবে। এই কাজে যারা নিয়োজিত তাদের তদারক ও নির্দেশনা দেবেন কাউন্সিলররা। নিয়োজিত জনবলের প্রতিদিনের নির্ধারিত কর্মঘন্টাকে তারাই কাজে লাগাবেন। সুযোগ পেলেই সকলে ফাঁকি দেয়। কেউ যাতে ফাঁকি দিতে না পারে সে ব্যাপারে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নজরদারি করতে হবে। তিনি আশা করেন, কাউন্সিলররা যথাযথ তদারকি ও নজরদারি সঠিকভাবে করলে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সুফল নগরবাসী অবশ্যই পাবে। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সামরিক বাহিনীর তত্ত্ববধানে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রকল্পের ৪০ ভাগের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে চাক্তাই খালসহ বিভিন্ন খালে কিছু স্থানে বাঁধ দেয়ায় পানি চলাচল রুদ্ধ হয়ে গেছে। তাই বর্ষা মৌসুমে ওভার-ফ্লো হতে পারে । একারণে এবছরও জলাবদ্ধতা মুক্ত হওয়া যাবে না। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের খালের যে অংশে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেখানে পানি চলাচলের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে দেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে বলে মন্তব্য করে বলেন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের অনেকেই আছেন যারা হাজিরা দেন কিন্তু কাজে নেই। কোন স্তরে কত জনবল আছে তা জানতে হবে এবং কারা কি কাজ করছে, কর্মঘন্টা কতক্ষণ তা যাচাই-বাছাই করে এই বিভাগতে ঢেলে সাজানো হবে। কেননা সিটি কর্পোরেশনের একটি টাকাও অপচয় করা যাবেনা। তিনি আরো বলেন, মশক নিধনের যে ওষুধ ছিটানো হয় তাতে কাজ হচ্ছে না বলে অভিমত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, নগরীর বেহাল সড়কগুলো মেরামত করতে যে পরিমান বিটুমিন দরকার সে পরিমান মজুদ নেই । তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঠিকাদাররা ওয়ার্ডে যে কাজগুলো করছে তা তাদের যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। কাজের মান বিচার তারাই করবেন। কাজের মান নিয়ে কাউন্সিলরদের সম্মতি মন্তব্য ছাড়া ঠিকাদাররা বিল পাবেন না। তিনি অবনতিশীল চসিকের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী থাকলে স্বাস্থ্য বিভাগের জৌলুস ছিলো। মেমন হাসপাতালের প্রসূতি ভর্তির জন্য তদবীর করতে হয়। এখন এখানে রোগি নেই। স্বাস্থ্যবিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নেই। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনগুলো জীর্ণ দশায়। কোন আরবান হেলথ কমপ্লেক্স স্বাস্থ্যের বাইরে অন্য অফিসে চলছে। এই আরবান হেলথ এডিপি প্রকল্পের অধীন এবং তাদের অনুদান নির্ভর। অনুদানের শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যের বাইরে আরবান হেলথ কমপ্লেক্সের স্থাপনা ব্যবহৃত হলে অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। সভায় মেয়র ভাষার মাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামফলক ইংরেজিতে লিখা থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা সরিয়ে ফেলতে বলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলমের সঞ্চালনায় এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো.ফজলুল্লাহ, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়য়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদিন অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোর্শেদ, বিভিন্ন সরকারি ও সেবা সংস্থার. প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর