প্রকাশ : 2018-04-15

ডিসি হিলে আগের মত যেকোন উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে :মেয়র আ.জ.ম নাছির

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাঙালিরা সাতচল্লিশ বছর পূর্ণ করেছে। রাজনৈতিক বিপর্যয় এবং নানা চড়াই-উতড়াই পার হয়ে বাঙালি আজ উন্নয়নের সড়কে অবস্থান করছে। এখানকার লোকেরা পেছনের দারিদ্র্য, দু:খ-গ্লানিকে জয় করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের এক আদর্শিক স্মারক হিসেবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন সামনে এগিয়ে যাবার সময়। নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে জীবনাচরণে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে পরিবর্তিত হচ্ছে মানসপথ। পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই প্রকৃত উন্নয়নের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। তাতে করে নববর্ষের তাৎপর্য প্রস্ফুটিত হবে। গতকাল ১৪ এপ্রিল ১৪২৫ বঙ্গাব্দ নগরীর নজরুল স্কোয়ার ডিসি হিল প্রাঙ্গণে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত ৪০তম বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ডি.সি হিলে উপস্থিত নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি একথা বলেন। মেয়র চট্টগ্রামের ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ডি.সি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চলমান রাখার এ আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ডিসি হিলে আগের মত যেকোন উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। মেয়র সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, চট্টগ্রামের সংস্কৃতি চর্চার সাথে ডিসি হিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সত্য কথাটি প্রশাসন জানেন। আমার জানামতে এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড আয়োজনের ব্যাপারে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন হওয়ায় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে সৃষ্ট শব্দ কম্পনের কারণে ওনাদের সামান্য অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ সমস্যা তো সহজেই সমাধান যোগ্য। তিনি আরো বলেন, ডিসি হিলে বিগত ৪০ বছর ধরে নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে আসছে। নববর্ষের উৎসব বলতে চট্টগ্রামের মানুষ ডিসি হিলের অনুষ্ঠানকেই বুঝেন। সুতরাং চট্টগ্রামের নববর্ষ পালনের ইতিহাসের সাথে ডিসি হিল ও জড়িয়ে গেছে। এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে আমি বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের সাথে বসব আলোচনা করব। এ ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। ওনাদের অসুবিধাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের যাতে কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে আলোচনা করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাতে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় বা নিয়ন্ত্রিত কর্মসূচী পালন করা হয় সে বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংস্কৃতি কর্মীদের অনুরোধ জানানো হবে। সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আহমেদ ইকবাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চ.সি.ক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, নগর আওয়ামীলীগের সদস্য বেলাল আহমেদ, মোরশেদুল আলম, সংস্কৃতি কর্মী অলোক ঘোষ পিন্টু, পঞ্চানন চৌধুরী, সুচরিত দাশ খোকন, মোহাম্মদ আলী টিটু, আবদুল হাদী, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, রিপন বড়–য়া প্রমুখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সারা দেশ পাতার আরো খবর