মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮
প্রকাশ : 2018-04-15

পুলিশই সবার নিরাপত্তার জন্য জীবন দিয়েছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী হবার পর তার কাছে সব ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন,মন্ত্রী হবার পর আমার কাছে সব ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হয়ে গেছে। কিছু পুলিশ সদস্য যে চাঁদাবাজি করে এটি আমি অস্বীকার করব না। এর বিরুদ্ধে আপনাদেরকে বলতে হবে, তবেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজনে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পুলিশ চাঁদাবাজি করে আবার এই পুলিশই সবার নিরাপত্তার জন্য জীবনও দিয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,আমরা যারা গাড়ি চালাই, আমরাই পুলিশকে চাঁদাবাজির সুযোগ করে দিচ্ছি। দেখা যায় যিনি গাড়ি চালাচ্ছেন, তার গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্স বা গাড়ির অন্য কাগজপত্র নেই। অথবা ওভারলোড। সব ঠিক থাকলে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না। সভা শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ছাত্ররা কোনো কিছুর দাবি করতেই পারে। কিন্তু ঢাবির ভিসির বাসভবনে যে হামলা হয়েছে এটিসহ ফেসবুকে মিথ্যা, গুজব ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটি মামলাসহ ৫টি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বলা যাবে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে একটি পরিবার ফেরত নেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। মিয়ানমারের সীমানায় নো ম্যান্স ল্যান্ডে ৬ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের ফেরত নেওয়ার জন্য আমরা বারবার বলার পরেও তারা নিচ্ছেন না। সভায় ডিসিসিআই সভাপতি বলেন,প্রতি বছর রমজান মাসের পূর্বে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনসাধারণের নিরবিচ্ছিন্ন সিয়াম পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী বলা যায়, গত বছর ২০১৭ এর এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় এবং ১২ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এ অবস্থায় রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস করে এবং সামাজিকভাবে ধনী-গরীবের অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে ২০১৮ সালে দেশে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যের গড় মূদ্রাস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতে আসন্ন রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরো বাড়লে মধ্যবিত্ত আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে। তাই আসন্ন রমজানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই ডিসিসিআই ও অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাজারে একটি করে বাজার তদারকি কমিটি এবং মূল্য নির্দেশক সাইনবোর্ড রাখা এবং উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে বাজার কমিটির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও জানান ডিসিসিআই সভাপতি। আবুল কাসেম আরও বলেন,রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু রমজানের পূর্বে বিগত বছরের চাহিদা অনুপাতে নিত্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য পণ্য পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করলে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে বর্তমানে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দুই অঙ্কের উচ্চ সুদের হার এবং কোনো কোনো ব্যাংকের ১৬ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ হার উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পাওয়ার জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ। এসব কিছুর চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে উৎপাদন খরচের সাথে যোগ হয় এবং ভোক্তাকেই তা বহন করতে হয়। এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা, সারা দেশে টিসিবির পণ্যসামগ্রী ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে বিক্রির কার্যক্রম জোরদার করা খুবই জরুরি। রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন-ছোলা, চিনি, চাল, দুধ, ভোজ্য তেল, খেজুর, খেসারি প্রভৃতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে রোজার মাসখানেক আগে এলসি খুলে বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে। এ সময় তিনি রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে করেকটি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান। এগুলো হল-রমজানে আমদানি নির্ভর ভোগ্যপণ্য বন্দর থেকে কাস্টম হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দ্রুত খালাসকরন, ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান প্রবেশের ক্ষেত্রে সেতু অতিক্রম ও ফেরি পারাপারে টোল প্রদানে বিলম্ব হ্রাস করা, জাল টাকা সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও এটিএম বুথে ছেঁড়া বা জালটাকার নোট সরবরাহ বন্ধ করা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যদ্রব্যের অনিয়ন্ত্রিত মজুদ চিহ্নিত ও বন্ধকরনে বাজার তদারককারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান, দেশের সব বাজারে নিয়মিত মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা এবং মূল্য তালিকা কার্যকর করা এবং দক্ষ ও পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা, বন্দর এলাকা, পাইকারি বাজার ও বাস্ততম পাইকারি বাণিজ্যিক এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিক সেবা প্রদান করা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়া রহমান। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন-কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি গোলাম রহমান ও ডিসিসিআই এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী নেতারা।

জাতীয় পাতার আরো খবর