বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
প্রকাশ : 2018-04-30

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন :দুদক কমিশনার

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিভিন্ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেশকিছু গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের ফাঁদে দিন দিন জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এ ভোগান্তি কমাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সোমবার বিআরটিএর ভোগান্তির ওপর বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে এক গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। এতে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবার আওয়াজ তুলুন ব্যানারে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,কোন রাজনৈতিক নেতা কি সচিব, দুদক কাউকে পরোয়া করে চলেনা। বিআরটিএসহ প্রত্যেকটা সেক্টরের দর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন আমাদের কাছে, সত্য হলে তাদেরকে আমরা জেলে পুড়বো। পরিবহন খাতসহ যে কোন সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমে ভোগান্তির রোধের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সেচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,যেখানেই দুর্নীতি ও ভোগান্তি দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ কল করে সেই অনিয়মের তথ্য আমাদের জানান। গণশুনানিতে বিভিন্ন ভুক্তভোগিরা তাদের গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্ম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগশাজস এবং গণ পরিবহনের অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। দুদক কমিশনার বিআরটিএর কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট উত্তর জানতে চাইলে বিআরটিএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে কোনও অভিযোগ গেলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য প্রতি জেলায় থাকা বিআরটিএর শাখা অফিসেই ব্যবস্থা রাখার দাবি ওঠলে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মাসুদুল আলমের কাছে দুদক কমিশনার জানতে চান। জবাবে মাসুদুল আলম বলেন,আমাদের এই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গাড়ির মালিকান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন গাড়ির মালিক তার গাড়ি বিক্রি করে মালিকানা পরিবর্তনের আগেই দেশের বাইরে চলে গেলে ভোগন্তিতে পড়েন নতুন ক্রেতা। দুদক জানতে চাইলে, এই ভোগান্তি রোধে একমাত্র মূল মালিকের উপস্থিতি ছাড়া আর কোন আইনি ব্যবস্থা বিআরটিএর নেই বলে মাসুদুল আলম জানান। এ বিষয়টির সমাধানে দুদকের কমিশনার বলেন,আপনাদের আইনি ব্যবস্থায় পাওয়ার অব এটর্নীর ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে করে মূল প্রক্রিয়ার আগেই গাড়ির মালিক দেশের বাইরে গেলেও ক্রেতার ভোগান্তি কমবে। গণপরিবহনে নেই ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট না থাকা ও অবৈধ সিটিং সার্ভিস ব্যবস্থায় বিআরটিএর নিস্ক্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরলে মাসুদুল আলম বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে যে সকল গাড়ির বিরুদ্ধে অনিয়ম পাই তাদেরই আইনের আওতায় আনি। কিছু গাড়ি বিআরটিএর নিয়ম মেনে চলাচল করে তার এমন দাবির প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে পাল্টা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়, যে কোনও কোম্পানির একটা পরিবহন দেখান যারা আপনাদের নিয়েম মেনে চলে। এই চ্যালেঞ্জের জবাবে বিআরটিএর এই শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন নিশ্চুপ। এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্মের বিষয়গুলোতে কোনও সদুত্ত দিতে পারেননি তিনি। গণ শুনানী শেষে নিজ বক্তব্যে দুদকের তদন্ত বিভাগের কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,জনগনের সেবা নিশ্চিত করতে আপনাদের উচিৎ এখন থেকেই আরও সচেতন হওয়া। তদন্ত করে খুঁজে বের করুন কোন কোন অংশে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। সেখানে পরিকল্পণার পরিবর্তন এনে তাদের কাজ সহজ করুন। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজদের তথ্য আমাদের কাছে দিন। দেখুন আমরা কি করি।

জাতীয় পাতার আরো খবর