বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
প্রকাশ : 2017-12-06

শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন

বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবদান সমরাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে মাঠে ময়দানে যুদ্ধ করেছি। আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা সেদিন কণ্ঠ দিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পথকে ত্বরান্বিত করেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ছিল না উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছি। শুধু তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, সেবা করেছেন এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন, সবাইকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবনে অহংকার করার মতো দুটি ঘটনা রয়েছে। একটি ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এবং অপর হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা ও বাংলাদেশকে চিনতে ও জানতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদানের কথা তৃণমূল পর্যায়ে সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, একটা দেশের জন্মের লড়াইয়ের সঙ্গে নিজের কণ্ঠ দিয়ে যুক্ত থাকতে পেরেছিলাম বলে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি। এখনকার তরুণ প্রজন্মও নিজেদের সেই সৌভাগ্যের অংশীদার করতে পারবে, যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে। অনুষ্ঠানে শাহীন সামাদ খালি কণ্ঠে জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি গেয়ে শোনান। শিল্পী তপন মাহমুদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছে। এই দেশকে শোষণ-বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্তভাবে গড়ে তুলতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আশা করি, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা তোমরা নস্যাৎ হতে দেবে না। অনুষ্ঠানে তপন মাহমুদ যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে গানটি গেয়ে শোনান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন একই ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ হামিদুল হক খান, মুক্ত আসরের উপদেষ্টা রাশেদুর রহমান তারা, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ। পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নাফিজা মৌ ও আশফাকুজ্জামান।