প্রকাশ : 2018-05-14

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের জন্য ঢাকার শাহবাগ চত্বরে অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার (১৪ মে) বেলা একটার দিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন করছেন তারা। এতে শাহবাগ এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছিল বিকেল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্রধর্মঘট পালন করা হবে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘট পালন করছে। কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন,যতক্ষণ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে না ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তাই আমরা বাধ্য হয়ে আবারও অন্দোলনে নেমেছি। নুরুল হক বলেন, এবার আমরা দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাব না। যতক্ষণ আমাদের দাবি পূরণ ( প্রজ্ঞাপন জারি) হবে না ততক্ষণ আমরা শাহবাগে অবস্থান করব। কেউ ঘরে ফিরে যাব না। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন,আমরা বারবার আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আমরা একরকম বাধ্য হয়েছি। বাধ্য হয়েই শাহবাগে অবস্থান নিয়েছি। কোনো কমিটি নয়, আমরা সংস্কার চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করেছেন সেটাকেও সাধুবাদ জানাই। এখন দ্রুত প্রজ্ঞাপন চাই। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ১৫০ জন ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। এর বাইরে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তারা দায় নেবেন না। এ ছাড়া দুষ্কৃতকারী পেলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। ঢাকার পাশাপাশি কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকা ধর্মঘটের মধ্যে ষোলশহর স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগানে ষোলশহর স্টেশন দখল করে রাখেন। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, বারবার এই আন্দোলন ঝামেলা মিটাবার জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হল বাতিল। কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেন সরকারপ্রধান। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছিল। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও জানিয়েছিল তারা। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের কথা বলার পর তারা এখন সেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবিতে রোববার দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। দ্রুত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন না হলে ফের রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সারা দেশ পাতার আরো খবর