প্রকাশ : 2018-05-29

আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদার মুক্তির ঘোষণা বিএনপির

আন্দোলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, আইন ও আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। এই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিইশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা এ আহ্বান জানান। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের নেত্রী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেছেন, দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন; সেই নেত্রীকে আজকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল তারাই আজকে আবার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশের মানুষের সমস্ত অধিকারগুলোকে হরণ করে নিয়েছে সরকার। সেই জন্য সবাইকে জেগে উঠতে হবে। নতুন করে শপথ নিতে হবে, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে ঐক্যববদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। সেই আন্দোলনে অবশ্যই সবাই সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। অবশ্যই তাকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, একদলীয় নির্বাচনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। সেই জন্যই বলছি, সবার আগে দেশনেত্রী খালদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করাও দাবি জানান মির্জা ফখরুল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপন করছেন। তাই এ সরকারের আমলে আইন আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এ জন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি। আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, আগামীতে যে ধরনের কর্মসূচিতে একজন স্বৈরচার সরকারের পতন হয়, সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলনের কর্মসূচির ধরণ পরিবর্তন হবে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া আন্দোলনের জন্য রাস্তা নেমে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে গণআন্দোলন হবে দেশে। আর গণআন্দোলনের মুখে এ সরকার বাধ্য হবে সহায়ক সরকারের দাবি মানতে। তিনি বলেন, সহায়ক সরকারে কথা বলে লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারেই ফিরতে হবে। অন্য কোনো সরকারে কথা বলে লাভ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার। সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

রাজনীতি পাতার আরো খবর