বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০
প্রকাশ : 2018-06-03

অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো : কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামে সমর চৌধুরী নামে ষাটোর্ধ্ব এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ। লন্ডন প্রবাসী সঞ্জয় দাশের ইন্ধনে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে পুলিশ সমর চৌধুরীকে ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। জায়গা দখলে নিতে সঞ্জয় দাশ পুলিশের সঙ্গে ৮০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকার চুক্তির পর ইতোমধ্যে ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সমর চৌধুরীকে ফাঁসানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ চট্টগ্রামের সর্বত্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ন্যক্কারজনক এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলা বার আইনজীবী সমিতিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। তবে সঞ্জয় সমর চৌধুরীকে চেনেন না দাবি করে তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সমর চৌধুরীকে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালত অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশের এমন কাজে বিস্মিত, বিরক্ত আইনজীবীরা। গত বুধবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের আদালতে সমর চৌধুরীর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সমর চৌধুরীর পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সমিতির সিনিয়র সদস্য রণাঙ্গ বিকাশ চৌধুরী, সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ এবং সমর চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের সময়ে প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী জুয়েল দাশ, গৌতম চৌধুরী পার্থ, আরশাদুর রহমান রিটু জামিন শুনানিতে অংশ নেন। এ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আইনজীবী জামিন শুনানিতে সমর চৌধুরীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। যদিও আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম জেলা বার আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল ভোরের কাগজকে বলেন, ‘একজন প্রবীণ লোকের পক্ষে অস্ত্র ও ইয়াবা রাখাটা বেমানান। উনাকে দেখলে অপরাধী বলে মনে হয় না। দৃষ্টিশক্তি নেই বললেই চলে। তিনি অস্ত্র দিয়ে কী করবেন? এলাকায় জায়গার বিরোধে উনাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। আমরা সবসময় নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকি। উনি যেহেতু আমাদের এখানে শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তাই আমরা সমর চৌধুরীর সঙ্গে আছি। সমর চৌধুরীর মেয়ে অলকানন্দা বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সঞ্জয় দাশের সঙ্গে আমার বাবার বন্ধু স্বপন দাশের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে স্বপন দাশ আমার বাবার সহায়তা চাইলে তিনি একজন ভালো আইনজীবী দেখিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সঞ্জয় দাশ পুলিশকে দিয়ে আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। এর আগেও বাবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং সমর চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, লোভের বশবর্তী হয়ে পুলিশ এক প্রবাসীর ইশারায় সমর চৌধুরীর মতো একজন সহজ-সরল বয়স্ক মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নগরী থেকে জোরপূর্বক তুলে এনে বোয়ালখালীর তার পরিত্যক্ত বাড়িতে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে আটক করেছে, যা কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা সমর চৌধুরীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, ‘সমর চৌধুরী এলাকায় থাকেন না। তিনি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকতে পারেন না। জায়গা-জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে সঞ্জয় দাশের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সঞ্জয় এলাকায় এক ডিআইজির কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। তিনি বাড়িতে এলে পুলিশ তাকে এস্কর্ট দেয়। স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুরেশ চৌধুরী বলেন, ‘সঞ্জয় দাশের যোগসাজশে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে সমর চৌধুরীকে ফাঁসিয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলায় থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে আমার বাসায় গিয়ে আমাকে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলা দিয়ে চালান করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। পুলিশের ভয়ে আমি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’ সুরেশ চৌধুরী বলেন, ‘সঞ্জয় দাশ তার চাচা স্বপন দাশের ছেলেকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে ১১ কানি জমি নিজের নামে লিখে নেয়। কিন্তু তার আগে আবু তাহের নামে একজনের নামে জায়গাটি রেজিস্ট্রি থাকায় ওই জমি সঞ্জয় দখল করতে পারছেন না।’ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মানুষটিকে ফাঁসানো হয়েছে। উনি আওয়ামী লীগের অন্তঃপ্রাণ একজন প্রবীণ নেতা। উনাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছিল বলে শুনেছি। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ব্যবহার করে উনাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।’ সমরকে ফাঁসানোর অভিযোগ নাকচ করে বোয়ালখালী থানার ওসি হিমাংশু দাশ রানা ভোরের কাগজকে বলেন, সঞ্জয় নামে কাউকে আমি চিনি না। কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মামলা নেয়া বা ফাঁসানোর প্রশ্নই আসে না। টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। টাকা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বাড়িতে অস্ত্র ও ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে নিয়ে অভিযানে গিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এখন বাঁচার জন্য তার পরিবার নানা ধরনের কথা বলবে, এটা স্বাভাবিক।সুত্র ভোরের কাগজ

সারা দেশ পাতার আরো খবর