বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০
প্রকাশ : 2018-06-04

শেরপুরের পানাইতেবাড়ীপাড়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূণ্য

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানাইতেবাড়ীপাড়া। দিনের বেলা দুই-একজন পুরুষের দেখা মিললেও সন্ধ্যা নামলেই পুরুষশূণ্য হয়ে পড়ে ওই গ্রামটি। ঘর-বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনসহ অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নেন তারা। আবার অনেকেই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অজানা স্থানে। উল্লেখ্য, গত ২০ মে রবিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১১৫ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু অপরাধীর কারণে গ্রামের প্রায় সব পুরুষদের আসামি করা হবে এবং গ্রেফতার আতঙ্কে পুরো গ্রাম পুরুষশূণ্য হয়ে যাবে এটা কোন সভ্য সমাজের চিত্র নয় বলে মন্তব্য করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে শনিবার রাত ৯ টার দিকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পানাইতেবাড়ি মোড় বাজারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৫ পিছ ইয়াবাসহ সুমন মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ খবর শুনে সুমনের চাচা ও ভাইয়েরাসহ বেশ কিছু লোকজন গোয়েন্দা পুলিশ দলের উপর হামলা চালিয়ে সুমনকে ছিনিয়ে নেয়। ওই হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন এবং এএসআই হাবিবুর রহমানের ব্যবহৃত একটি এনড্রোয়েড মোবাইল ও ৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং এএসআই শামীমের ২ হাজার ৫০০ টাকা খোয়া যায়। এদিকে মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম ছুডু অভিযোগ করে জানান, এ মামলায় তার বাবা, ভাগ্নে উজ্বল, জুয়েল ও তাকে আসামি করা হয়েছে, অথচ ঘটনার সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। তাদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এখন গ্রেফতার এড়াতে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অপর আসামি সফিকুল ইসলামের স্ত্রী মাসুরা জানান, ঘটনার সময় তার স্বামী তারাবীহ নামাযে ছিলেন। শিশু মেয়ে দোকানে বসা ছিল। হইচই শুনে নামাজ শেষ না করেই করে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসেন। শুভ নামের এক ডিভি পুলিশ সদস্য তাদের ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে তারাই ডিভির সদস্য শুভ-কে কালিবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছে দিয়ে আসে। অথচ তাদেরকেও আসামি করা হয়েছে। তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এখন সফিকুল ইসলামের স্ত্রী মাসুরা ও তাদের শিশু মেয়েকে নিয়ে দোকান চালাতে হচ্ছে। এতে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে বলে তারা জানান। স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল্লাহ বলেন, ডিবি পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কিছু নির্দোষ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন এলাকার ভিতরে একজন পুরুষ মানুষও নেই। গ্রাম পুরুষশূণ্য হয়ে গেছে। এমনকি মসজিদে নামায পড়ার মতো কেউ নাই। এছাড়া এলাকার সব বয়সের মহিলা ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন বলে তিনি জানান। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার এবং দ্রুত তদন্ত করে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিষয়েও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। তাছাড়া সাহরী, ইফতার কেনাকাটা করার মতো কোনো লোক না থাকায় খুব কষ্ট করে রোজা রাখতে হচ্ছে বলে অনেক মহিলা জানান। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সজীব খান বলেন, এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সুজন ও সাইফুল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ ওই ঘটনায় কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হবে না বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

সারা দেশ পাতার আরো খবর