বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
প্রকাশ : 2017-12-07

বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনার

প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনা বলেছেন, আমাকে কেন ক্ষমা করবে, আমি কি করেছি। বরং উনি উল্টো মাফ চাওয়া দরকার। তিনি বলেন, এই সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কম্বোডিয়ার একটি সড়ক বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফর নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় গণভবনের সংবাদ এই সম্মেলন শুরু হয়। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে গত ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তিনি দেশে ফিরেন। জেরুজালেমকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি বিশ্বের কেউ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি গোটা বিশ্বের কাছেই অগ্রহণযোগ্য। গণভবনে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা আমেরিকার এই ঘোষণার জবাবে বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জাতিসংঘের স্পষ্ট রেজ্যুলেশন আছে, এই ঘোষণা সেটিকেই অগ্রাহ্য করল। কেউই এটা মেনে নেবে না। এটাই আমাদেরও বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দাবি নয়, তাদের অধিকার। সবার উচিত তাদের স্বীকৃতি দেওয়া। তিনি বলেন, এটা সবারই জানা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম জেরুজালেমের ভূখণ্ডই ফিলিস্তিনের রাজধানী হওয়ার কথা ছিল। আমি মনে করি, এখনো তাদের সেটাই থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার এই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য ফের অশান্ত হবে। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে অশান্তি দেখা দেবে। আমেরিকায় তাদের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, আবার তারাই অশান্তির সৃষ্টি করল। তিনি আরো বলেন, এখন মুসলিম বিশ্বের একটাই কাজ, ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া। যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না, তারা নির্বাচনে আসবে না। এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন ,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসা প্রত্যেক দলের কর্তব্য। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। জনগণ যাতে পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। যারা জনগণের কল্যাণ চায়, তারাই নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসুক। খুনি যুদ্ধাপরাধীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিএনপি নাকে খত দিয়ে এবারের নির্বাচনে আসবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। সাধাসাধির কিছু নেই। জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল, জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটলোকিপনা যারা করে তাদের সঙ্গে কিসের আলোচনা? ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়, স্বাধীন ফিলিস্তিন হতে হবে। তারেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সৌদিতে টাকা পাচারের বিচার দেশে হবে। আগামীতে ভোট না দিলে আফসোস থাকবে না। বাংলাদেশকে বিশ্ব সমীহ করে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ক্ষমতা আমাদের কাছে জনগণের সেবা করা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে আওয়ামী লীগকে দরকার। কোনো এমপি ডেঞ্জার জোনে নেই, অন্তত রেড লাইনে নেই। নির্বাচনের হাওয়া বওয়া ভালো, গণতন্ত্র বিরাজ থাকার লক্ষণ। বিশ্বের শীর্ষ তিন সৎ নেতার মধ্যে আমি একজন। এমন কোনো দৈন্যদশা হয়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। খালেদা জিয়ার জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতীয় পাতার আরো খবর