প্রকাশ : 2018-06-27

শাকিব-অপু থেকে শাকিব-বুবলী জুটি

শাকিব-অপু থেকে শাকিব-বুবলী জুটি। ঢালিউডে অন্যতম দুটি জনপ্রিয় জুটি। এই দুই জুটির মিল অমিলের একটি রসায়ন আছে। চলচ্চিত্রপাড়ার লোকজনের কথায় অমিলের চেয়ে মিলটিই বেশি দৃশ্যমান। যেমন শাকিব-অপু ক্যারিয়ারের শুরু থেকে একটানা জুটি বেঁধে কাজ করতে থাকেন। এই জুটির কাজ দর্শক গ্রহণও করেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাদের নিয়ে প্রেম বিয়ের খবর বাতাসে চাউর হতে থাকে। যদিও তারা তা অস্বীকার করে তখন বলেছিলেন,সবই মিথ্যে, আমরা দুজন ভালো সহকর্মী আর বন্ধু। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে এমন রটনা রটতেই পারে। পরের ঘটনা সবার জানা। ২০১৭ সালে শাকিব-অপু অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ও শাকিব-বুবলী জুটির সূচনা হলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। এই জুটিকে নিয়েও শুরু থেকেই গোপন প্রেম বিয়ের খবর দুষ্টু বাতাস ছড়াতে থাকে। যদিও দুজনেই বলছেন,আরে ভাই সবই মিথ্যে, আমরা দুজন ভালো বন্ধু আর সহকর্মী। এখন সময়ই বলে দেবে দুষ্টু বাতাস সত্যি নাকি মিথ্যে বলেছে বলছেন চলচ্চিত্রপাড়ার লোকজন আর তাদের দর্শক ভক্তরা। ২০০৬ সালে শাকিব-অপু জুটি বেঁধে কাজ শুরু করেন। তাদের প্রথম ছবি ছিল কোটি টাকার কাবিন। প্রথম ছবিতেই দর্শক তাদের সাদরে গ্রহণ করেন। এরপর একে একে চাচ্চু, পিতার আসন, দাদীমা, মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি ছবিগুলোতে টানা জুটি বাঁধেন তারা। সফলও হন। ২০১৭ সালে বসগিরি ছবি দিয়ে জুটিবদ্ধ হন শাকিব-বুবলী জুটি। এরপর একাধারে শুটার, রংবাজ, অহংকার, চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া, সুপার হিরো, ক্যাপ্টেন খান, একটি প্রেম দরকার মাননীয় সরকার ছবিগুলো নিয়ে পথ চলতে থাকেন এই জুটি। এ পর্যন্ত বুবলী শুধু শাকিবের সঙ্গেই জুটি বেঁধেছেন। তাদেরকেও দর্শক মনে-প্রাণে গ্রহণ করেছেন। ২০০৬ সালে শাকিব-অপু জুটি বেঁধে কাজ করতে গিয়ে একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মানে মাত্র দুবছরের মাথায় ২০০৮ সালে গোপনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। এই গোপন খবরও দুষ্টু বাতাস রাখেনি গোপন। ছড়িয়ে দেয় আকাশ বাতাস আর কানে কানে। কিন্তু যথারীতি দুজনের অস্বীকার আরে যত্তসব মিথ্যে কথা, আপনারা কোথা থেকে যে এমন সব উদ্ভট খবর পান বুঝি না। তাদের এমন প্রতিবাদের সুরে বিশেষ করে উপযুক্তদ্ধ সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে সবাই চুপসে গিয়েছিলেন তখন। এখনো আবার শাকিব-বুবলী জুটিকে নিয়ে দুষ্টু বাতাস একই গন্ধ ছড়াচ্ছে। আর যথারীতি দুজনের সেই পুরনো প্রতিবাদ আমরা দুজন ভালো বন্ধু আর সহকর্মী ছাড়া আর কিছুই নয়, সবই মিথ্যে। চলচ্চিত্র পাড়ার লোকজন এখন মুচকি হেসে বলছেন দেখা যাক দুষ্টু বাতাস এবার তার দায় এড়াতে পারে কি না? শাকিব আর অপু যখন জুটি বেঁধে কাজ শুরু করেন তখন নাকি কোনো নির্মাতা তার ছবিতে শাকিবকে কাস্ট করলে শাকিব সরাসরি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলতেন নায়িকা হিসেবে ওই ছবিতে অপুকে না নিলে তিনি কাজ করবেন না। অগত্যা নির্মাতা শাকিবের কথাই মেনে নিতেন। এমন ঘটনা নাকি প্রয়াত চিত্রনির্মাতা চাষী নজরুলের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। চাষী নজরুলের দেবদাস ছবিতে পার্বতীর চরিত্রে নিতে চেয়েছিলেন পূর্ণিমাকে। শেষ পর্যন্ত শাকিবের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে অপুকেই নিতে হয়েছিল। শাকিবের শর্তের কারণেই অপুর শতকরা ৯৮ ভাগ ছবির নায়ক শাকিব খান। অপু তখন বলতেন, যে কোনো নায়কের সঙ্গে কাজ করতে আমার আপত্তি নেই, তবে শাকিবের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। শাকিবের কারণেই আজ আমি অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। ঘুরে-ফিরে শাকিবের ছবির নায়িকা মানেই অপু। এখন যেমন শাকিব মানেই বুবলী। শাকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হাটে হাঁড়ি ভাঙেন অপু। তিনি জানান, শাকিবের আপত্তির কারণেই প্রচুর প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করতে পারতেন না তিনি। না হলে তার ছবির সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হতো। অর্থবিত্তের পরিমাণও বাড়ত। এখন অপুর সুরে বুবলী বলছেন,শাকিবের সঙ্গে কাজ করতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ শাকিব ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক। তবে অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করতে তার আপত্তি নেই। বুবলীর এমন কথায় চলচ্চিত্রপাড়ার লোকজন বলছেন শাকিব-অপুর সব ঘটনাই যখন শাকিব-বুবলীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে তখন বুবলীর কথার সত্যতা জানতে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে।