বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
প্রকাশ : 2017-11-18

যন্ত্রে তৈরি জাজিমের বাজার বড় হচ্ছে

একজন মানুষ দিনে যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তাঁর জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় কাটে বিছানায়। সেই বিছানাকে আরামদায়ক করার পেছনে ব্যয় করতেও মানুষ পিছপা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ একসময় ধুনকরদের দিয়ে জাজিম-তোশক তৈরি করে বিছানা সাজাত। এখন জাজিম-তোশকের বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় যন্ত্রে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস। দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে যন্ত্রে তৈরি ম্যাট্রেসের বাজার। শুধু রাজধানী ঢাকার উচ্চ আয়ের মানুষেরা নয়, জেলা-উপজেলা শহরের বাসিন্দারাও এখন ম্যাট্রেস কিনছেন। এ বাজারে আধিপত্যের পুরোটুকুই দেশি কোম্পানির। অভিজাত আবাসিক হোটেল বাদে দেশে যত ম্যাট্রেস বিক্রি হয়, তার পুরোটাই দেশীয় উৎপাদকেরা সরবরাহ করেন। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে এখন ২০টির মতো কোম্পানি ম্যাট্রেস উৎপাদন করছে। বছরে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। এ বাজার বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। মানুষের আয় যত বাড়বে, বাজারের আকার তত বাড়বে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় ম্যাট্রেস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিফাতুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একসময় ম্যাট্রেস শুধু অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ব্যবহার করতেন। এখন দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তাই এটি এখন আর অভিজাত পণ্য নেই। তিনি বলেন, এখন জাজিমের পরিবর্তে ম্যাট্রেসের ব্যবহার খুব বেড়েছে। পরিবর্তনটি এসেছে গত পাঁচ বছরে। এ সময় মূলত ম্যাট্রেসের দাম কমেছে, বাজার বেড়েছে। দেশীয় বাজারে আধিপত্য থাকলেও দেশি কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে নেই। ম্যাট্রেস রপ্তানিতে ঝক্কি অনেক বেশি। একটি কনটেইনারে খুব কম পরিমাণ ম্যাট্রেস ধরে। এতে জাহাজভাড়া অনেক বেশি পড়ে যায়। তাই কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে সুবিধা করতে পারছে না বলে জানান এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে আসবাবপত্রের সঙ্গে সামান্য কিছু ম্যাট্রেস বিদেশে যায় বলে জানান তাঁরা। অবশ্য ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজার বেশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চমজের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ৪ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের এখনকার মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে ৯০০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার।