প্রকাশ : 2018-07-03

অধ্যক্ষ-প্রভাষকের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের জেরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওই কলেজের এক প্রভাষকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনায় সোমবার থেকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দু-দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও প্রভাষকের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার অডিও টেপ প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টক অব দি টাউনে পরিনত হয়। রবিবার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও প্রভাষক পদত্যাগ করেন। শহরতলীর বিরাসাস্থ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী তারই কলেজের প্রভাষক ইছা হকের স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করছেন বলে ২৮শে জুন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেডের কোম্পানী সচিব নাসিবুজ্জামান তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর রবিবার (১লা জুলাই) এনিয়ে গভর্নিং কমিটির সভা বসে। সভাতে অধ্যক্ষের সাথে প্রভাষকের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হয় এবং তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রভাষক নিজেও জানতেন বলে স্বীকার করেন। তিনিই স্ত্রীকে দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন বলে সভায় ওঠে আসে। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ এবং প্রভাষক দু-জনেই চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ খবরে ওইদিন বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরই কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সোমবার থেকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল এন্ড কলেজ দু-দিনের বন্ধ রাখা হয়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্র বলেন, স্কুলবন্ধের বিষয়ে আমাদের আগে জানানো হয়নি। আমাদের অভিভাবকদের মোবাইলে স্কুল বন্ধের কথা লিখে ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানী সচিব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদার বলেন, অধ্যক্ষ ও প্রভাষকের স্ত্রী ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদের সভায় দু’পক্ষকে ডাকা হয়। তারা দুইজন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। অধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলক ও ব্ল্যাকমেইল করতে করা হয়েছে বলে দাবী করেন কলেজ অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী। তিনি ষড়যন্ত্র ও ব্লেকমেইলিংয়ের শিকার। সিবিএ এবং লোকাল শিক্ষকরা তাকে ব্লেকমেইল করেছে। তাকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। ভয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, তাদের(কর্তৃপক্ষ) উচিত ছিলো সময় নিয়ে বিষয়টি দেখা। তবে প্রভাষক পত্নীর সঙ্গে দুষ্টামি করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর