প্রকাশ : 2018-07-05

দুর্ভোগ-বর্ষণ ঢলে নিচু এলাকা প্লাবিত

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় নিচু জায়গাগুলোয় পানি উঠে গেছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার নিচু সড়ক। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— সুনামগঞ্জ : পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুরমা নদীর পানি বেড়ে গেছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ মিমি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের নিচু এলাকার কিছু রাস্তাঘাটে পানি উঠে গেছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে শহরের সাধারণ মানুষের মনে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঘরবাড়িতে পানি ওঠেনি। উত্তর আপিন নগর এলাকার বাসিন্দা আবু আলী বলেন, আমাদের ঘর নদীর পাড়ে হওয়ার কারণে আমরা বেশি ঝুঁকিতে আছি। যেভাবে পানি বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে। মঙ্গলবার সুরমা নদীর পানি ছিল ৭১ সে.মি.। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকা সাহেব বাড়িঘাট পশ্চিমবাজার, উত্তর আরপরিনগর, বড়পাড়া নিচু জায়গাগুলোয় পানি উঠে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লালমনিরহাট : অবিরাম বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা-ধরলাসহ ১২টি নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গরপোতা, চরদহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম কাশিরাম, চর বৈরাতী, নোহালী, শৈলমারী, ভোটমারী, হাজিরহাট, আমিনগঞ্জ, কাঞ্চনেশ্বর ও রুদ্ধেশ্বর; আদিতমারী উপজেলার চণ্ডি মারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, আরাজি শালপাড়া, চরগোর্ধ্বন ও সদর উপজেলার কালমাটি, খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, তাজপুর, গোকুণ্ডা, মোগলহাট, বনগ্রামসহ নদী তীরবর্তী প্রায় ২৫ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া : গত মাসের মাঝামাঝি সময় দুই দিনের বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় রাঙ্গুনিয়ার নিম্নাঞ্চল। ১৫ দিনের ব্যবধানে সোমবার রাত ৮টার পর থেকে শুরু করে মঙ্গল ও বুধবার দিনব্যাপী ভারি বর্ষণে আবারও রাঙ্গুনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় নদী-খালের তীরবর্তী এলাকার শ’খানেক গ্রামের অন্তত ৬০০ কাঁচা বসতঘর ডুবে গেছে। পানির নিচে রয়েছে অন্তত ২০টি অভ্যন্তরীণ সড়ক। পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাদের বসতি তাদের সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। সড়ক ও স্কুলঘর ডুবে যাওয়ায় স্থগিত রয়েছে একটি বিদ্যালয়ের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। রাঙ্গামাটি : কয়েকদিনের টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের রাউজানে প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কে পাহাড় ধসের কারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানের সড়কে ছোট ছোট ভাঙন ও ফাটলের সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কে ধস, ফাটল এবং গাছ উপড়ে পড়ায় রাঙ্গামাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সিরাজগঞ্জ : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এবার সিরাজগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলে পাট, কাউন ও তিলসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে। সেইসঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, শাহজাদপুর, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি ও এনায়েতপুর থানার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার সহস্রাধিক বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বহু জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।