প্রকাশ : 2018-07-11

জয়ের মিশনে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই এ তিন সিটিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীকে ভোট। তিন সিটিতেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। খুলনা ও গাজীপুরের মতো এ তিন সিটিতেও জয় চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। খুলনার পর গাজীপুরেও বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের নজর এখন বাকি তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বরিশালে দলীয় প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক সেরনিয়াবাত আবদুল্লাহ। রাজশাহীতে লিটনকে ১৪ দল সমর্থন দিয়েছে। সিলেটে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি প্রার্থীর সামনে চ্যালেঞ্জ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী। বরিশালে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দল বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ সংকট। ফলে বাড়তি সুবিধা দেখছে আওয়ামী লীগ। দলের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, এই তিন সিটি নির্বাচনে বিগত দিনে যে ভুলত্রুটি ছিল তা শুধরে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রথমেই জোর দেওয়া হয়েছে দলীয় ঐক্যের ওপর। এ ছাড়া এই তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে জোটের প্রার্থী। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তিন সিটিতে জয়ের লক্ষ্যে নানা কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। এরই অংশ হিসেবে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে গঠিত তিনটি পৃথক সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও গঠন করা হয়েছে পৃথক নির্বাচনী টিম। আজ থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা সিটি এলাকাগুলোয় নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন। এ ছাড়া যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগ পৃথকভাবে টিম গঠন করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছে। জানা গেছে, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলীয় ঐক্য এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাস করে। বিগত সময়ে এসব সিটিতে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখন মানুষ অনেক সচেতন।’ স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী সমন্বয় করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। সিলেট সিটি নির্বাচনে দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তারা একাধিকবার বিভাগীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে নানা কর্মপরিকল্পনাসহ কেন্দ্রের নির্দেশ স্থানীয় নেতাদের কাছে পৌঁছে দেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই। গতবার দলে কিছু অনৈক্য ছিল। এবার আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ।’ বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। কমিটির সদস্য সচিব মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। বরিশাল সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় এই টিম সিটির বাইরে গিয়ে নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচনী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। কয়েক দিন ধরে বরিশালের সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে আস্থা রেখে সারা দেশের মতো বরিশালের মানুষও নৌকায় ভোট দেবে।সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন