প্রকাশ : 2018-07-15

কিছু মহল নানা ধরনের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে

অনলাইন ডেস্ক :সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু মহল নানা ধরনের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। আজ শনিবার (১৪ জুলাই) রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিচভ দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়েছে। রাশিয়া তাদের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে এটা নির্মাণ করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ আমরা দিচ্ছি আমাদের লোকজনকে। আমাদের সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে প্রশিক্ষিত আলাদা একটি ইউনিট গঠন করছি। এজন্য রাশিয়ায় যেমন প্রশিক্ষণ হচ্ছে, ভারতেও প্রশিক্ষণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যও নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব রাশিয়া নিয়েছে। কাজেই কারো কোনো আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি শান্তির জন্য ব্যবহার করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা আণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়েক্টর ভবনের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ইউনিটটির মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১২শ’ একর জমির উপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প। গত বছর ৩০ নভেম্বর এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ইউনিটের এই কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে (নিউক্লিয়ার নেশন) যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩২তম সদস্য দেশ। বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চালু আছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন হিসেবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আমাদের এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক, এটা আমরা চাই। আমরা এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখবো। রাশিয়াকে সুসময়ের বন্ধু ও দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতাই করে নাই, যুদ্ধের পরে দেশ গড়ে তোলার ‍কাজেও সহযোগিতা করেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে পোতা মাইন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অপসারণ করতে গিয়ে রাশিয়ার কয়েকজন আত্মত্যাগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই রাশিয়া আজ আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করছে। আমি ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে পুতিনের সঙ্গে কথা বলি। তখন তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করছি। ২০২১ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেবো তার একটা খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আমি সেটা একবার দেখেছি। আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো, কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইএ) পরিচালক দহী হান, রাশিয়ার কৃষি উপমন্ত্রী ইলিয়া শেস্তাকফ, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থার (রোসাটম) ডেপুটি ডিরেক্টর আলেক্সান্ডার লাক্সি, ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান অভিলাস ভরদ্বাজ প্রমুখ৷ আরও উপস্থিত ছিলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধিরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর