প্রকাশ : 2018-07-31

সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেলেন রুনা লায়লা

অনলাইন ডেস্ক: গান গেয়ে অগণিত মানুষের মন জয়ের পাশাপাশি অনেক পুরস্কার, পদক পেয়েছেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন সোমবার বিকেলে। এটি ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক। তাঁর ভাষায়, অনেক পুরস্কার পেলেও এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। কারণ, পুরস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ফিরোজা বেগমের নাম। তিনি এত বড় শিল্পী যে তাঁর তুলনা কেবল তিনি নিজেই। সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবার পুরস্কার পেয়েছেন রুনা লায়লা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী ফিরোজা বেগমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত পুরস্কারটি তৃতীয়বারের মতো প্রদান করা হলো। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থী ঊর্মি ঘোষকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে রুনা লায়লা বলেন, আজকের দিনটি আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ফিরোজা বেগমের নামাঙ্কিত এ পদকপ্রাপ্তি আমার জন্য আশীর্বাদ। সব সময়ই যেকোনো পুরস্কার আনন্দের পাশাপাশি অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে আমার কাছে এ পুরস্কারটি অন্য রকম। কীর্তিমান শিল্পীদের সম্মান জানানো ও দেশজ শুদ্ধ সংগীতচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে গঠিত এসিআই ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ফিরোজা বেগম মেমোরিয়াল ফান্ড তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন রুনা লায়লা। তাঁকে দুই ভরি ওজনের ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রদান করা হয় পুরস্কারের সম্মানী এক লাখ টাকা। একই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের বিএ সম্মান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থী ঊর্মি ঘোষকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ফিরোজা বেগম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিরোজা বেগমের ভাই এসিআই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা। সংক্ষিপ্ত কথনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন মহসিনা আক্তার খানম (লীনা তাপসী খান)। উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন,নজরুলসংগীতকে গণমানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন ফিরোজা বেগম। একসময় কাজী নজরুল ইসলাম ও ফিরোজা বেগমের নামটি যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হয়ে যায়। ফিরোজা বেগমের নামাঙ্কিত সেই পুরস্কার রুনা লায়লাকে প্রদানের মাধ্যমে আমরা নিজেরাও সম্মানিত হলাম। বাংলা গানকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিত করেছেন এই শিল্পী। বিদেশিদের কাছে আমাদের উদার ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন রুনা লায়লা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীও স্বর্ণপদক প্রাপ্তির মাধ্যমে তাঁর একাগ্রতার স্বীকৃতি পেল। তাঁর মেধার মূল্যায়ন হলো। রুনা লায়লার প্রশংসা করে লীনা তাপসী খান বলেন, তাঁর সংগীত পরিবেশনার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন পারফরম্যান্সের বিষয়টি। গান গাওয়ার মাধ্যমে তিনি যখন পারফরম্যান্স করেন, তখন তাঁর প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেন কথা বলে ওঠে। সুরের আবহে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। অনেকগুলো কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে শোনায় আমরা নতুন যৌবনের দূত শুকনো পাতার নূপুর বাজে। অঞ্জলি লহ মোর গানের সঙ্গে ছিল সমবেত নৃত্যও। ঊর্মি ঘোষের একক সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় অনুষ্ঠান। গেয়ে শোনান মেরে পিয়া রাহিয়ো না যায়ে। অনুষ্ঠান শেষে সমাগতদের ধন্যবাদ জানান সংগীত বিভাগের চেয়ারপারসন টুম্পা সমাদ্দার। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। দর্শক সারিতে বসে অনুষ্ঠানে আলো ছড়িয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সংগীত ব্যক্তিত্ব মুস্তফা জামান আব্বাসী, রেজওয়ান চৌধুরী বন্যা, নৃত্য ব্যক্তিত্ব লায়লা হাসান, ফিরোজা বেগমের ছেলে ব্যান্ড তারকা হামিন আহমেদ, ভাগ্নি সুস্মিতা আনিস প্রমুখ। শিল্পী ফিরোজা বেগম ১৯২৬ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান। ওয়ান নিউজ