প্রকাশ : 2018-08-02

অলিখিত ধর্মঘট ঘাতকদের রক্ষা করতেই !

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর কুর্মিটোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় নগরীতে পঞ্চমদিনে গড়ালো স্থবিরতা। বৃহস্পতিবার থেকে (২ আগস্ট) শুরু হয়েছে বাস শ্রমিকদের অলিখিত ধর্মঘট। বেশিরভাগ রুটে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। দুই-একটি রুটে বাস দেখা গেলেও তা অন্য দিনের তুলনায় নগন্য। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সকাল ৯টায় অন্যদিনে রাস্তায় থাকে বাসের সারি। তবে বৃহস্পতিবার বাস শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বেশিরভাগ রুটে বাসের দেখা মেলেনি। দুর্ঘটনার উৎপত্তিস্থল কুর্মিটোলায় প্রায় বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে তেতুলিয়া পরিবহনের (শিয়া মসজিদ-আব্দুল্লাহপুর) একটি বাসের দেখা মিলেছে। অন্যদিন হলে এ সময় হরেক রঙের, হরেক রুটের কয়েক শতাধিক গাড়ির দেখা মিলতো। যাত্রীদের অনেকেই পায়ে হেঁটে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে, কেউ আবার রিকশায়। অনেককে দেখা গেছে পিকআপে চড়ে গন্তব্যে রওনা দিতে। কালশী নতুন রাস্তার মোড়ে তুহিন মিয়া নামের এক বীমা কর্মী জানান, সকাল ৮টায় এসে দাঁড়িয়েছেন। আধাঘণ্টা গড়িয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা পাননি। তিনি বলেন, এটা বাস মালিক-শ্রমিকদের একটা কৌশল। অলিখিত ধর্মঘট চালিয়ে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন। এর আগে যখন সিটিং তুলে দেওয়া হলো তখনও তারা এভাবে জিম্মি করে তাদের অনৈতিক দাবি আদায় করে নিয়েছেন। এবারও তারা যাত্রীদের জিম্মি করেছেন বাস বন্ধ করে ঘাতক চালকদের রক্ষার জন্য। অতীতেও তারা সব অনিয়ম করে এভাবেই পার পেয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একধাপ এগিয়ে অপেক্ষায় থাকা অন্য যাত্রী তুষার জানান, ঘাতক চালকদের রক্ষার জন্য যারা এ অঘোষিত ধর্মঘট করছে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। কারণ একজন অপরাধীকে সাপোর্ট করা ওই অপরাধ করারই সামিল। কালশী মোড়ে তুহিন মিয়া ও তুষারের মতো আরও শত শত যাত্রী অপেক্ষায় আছেন। শুধু এখানে নয়, মিরপুর ১০ নম্বর, পুরবী, মহাখালীতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মতিঝিল থেকে মীরপুর. মহাখালী, উত্তরা রুটেও কোনো গণপরিবহন নেই ৷ শুধু দুই-একটি বিআরটিসি বাস চলছে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে দেখা গেছে, শত শত মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন৷ পুরানা পল্টনেও একই চিত্র। বাস উধাও। সকালে গুলিস্তান ও পল্টনের রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। এ এলাকায় বিঅারটিসির দুই-একটি ছাড়া অার কোনো বাস দেখা যায়নি। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পায়ে হেঁটে ও রিকশায় করে গন্তব্য যাচ্ছেন অনেকে। তবে গুলশান এলাকার চিত্র অনেকটা ভিন্ন। এখানে ঢাকা চাকা পরিবহন নিয়মিত চলাচল করছে। দুর্ঘটনার পর থেকে শুধু ঘাতক পরিবহন জাবালে নূর বন্ধ ছিল। চারদিনের মাথায় এসে অলিখিত ধর্মঘটে গেছেন মালিক-শ্রমিকরা। প্রায় সব রুটেই বাস সংকটের খবর পাওয়া গেছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে ঘাতক বাস চালক আটকের খবরে ক্ষুদেদের আন্দোলন যখন কিছুটা স্বস্তির দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখন দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে পুলিশ। আবার তৃতীয় দিনে শনির আখড়ায় আন্দোলনকারীদের উপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরণমুখ করে তোলে। শনির আখড়ার ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। চতুর্থদিনে সংঘাত এড়াতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর