প্রকাশ : 2018-08-13

মুক্ত আশরাফুল

অনলাইন ডেস্ক: এখন তিনি ইংল্যান্ডে অনুশীলন করছেন। ইংল্যান্ডে কেনো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আশরাফুল বললেন, এখানে ২০১৯ বিশ্বকাপ। তাই ইংলিশ কন্ডিশনে নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছেন! না, আশরাফুল এখনই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যাননি। তবে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হতে আর তার কোনো বাধা নেই। অবশেষে আজ থেকে সব ধরনের ক্রিকেট খেলার জন্য মুক্ত হয়ে গেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। গত দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারলেও তার ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার ওপর এবং বিসিবির কোনো দলে বিবেচিত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত ছিল। আজ থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এই দিনটায় পৌঁছাতে পেরে দারুণ খুশী বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। তিনি বলছেন, এখন বিপিএলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পারফরম করে আবার জাতীয় দলে ফিরতে চান তিনি। ২০১৩ সালের জুন মাসে এর আগের বিপিএল আসরে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় প্রথম নিষিদ্ধ করা হয় আশরাফুলকে। পাশাপাশি আইসিসির দুর্নীতি ও অপরাধ দমন ইউনিট (আকসু) ও বিসিবি এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আকসুর পাওয়া তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুনানি শুরু করে বিসিবির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ওই বছর জুন মাসে আশরাফুলকে ৮ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপরের মাসে আশরাফুল তার নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল আবেদন করেন। সেই আপিলের শুনানি শেষে আশরাফুলের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। এর মধ্যে প্রথম তিন বছর তিনি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন এবং পরের দুই বছর নিষিদ্ধ ছিলেন ফ্রাঞ্চাজি ক্রিকেট ও বিসিবির সব দল থেকে। অবশেষে গতকাল সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আশরাফুল বলছিলেন, এই সময়টার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। এই দিনটা মাথায় রেখেই আমি পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কোথাও খেলতে বাধা নেই। বিশেষ করে বিপিএলে খেলাটা আমার জন্য বড় একটা উপকারের ব্যাপার হবে। পাঁচ বছর আগে একটা অন্যায় করেছিলাম, অবশেষে সেই অন্যায়ের শাস্তি পুরো শেষ হলো। গত দুই বছরে আশরাফুল নিয়মিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলেছেন। বিশেষ করে গত বছর ঢাকা লিগে ৫টি সেঞ্চুরি করে আবার নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। আশরাফুল বলছিলেন, এই সময়ে তাকে যে সব মানুষ সমর্থন দিয়ে গেছেন, এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞ,এই কাজ অন্য কেউ করলে সমাজ হয়তো তাকে পুরোপুরি ছুঁড়ে ফেলে দিত। আমি আগ বাড়িয়ে সব অন্যায় স্বীকার করার জন্য হোক, বা অন্য কোনো কারণে হোক, এই সময়টায় মানুষ আমাকে দারুণ সমর্থন দিয়েছে। আর পরিবারের কথা তো বলার দরকারই নেই। তারা সবসময় আমার পাশে ছিল। বন্ধুরা ছিল। এমনকি সাধারণ মানুষ আর মিডিয়ারও দারুণ সমর্থন পেয়েছি। লোকে বার বার জিজ্ঞেস করেছে, আশরাফুল কবে ফিরবে, আশরাফুলকে দেখতে চাই। এসব কথাবার্তা আমাকে টিকিয়ে রেখেছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়েও যে ট্রেনিং করতে পেরেছেন, তাকে উত্সাহ দেওয়া হয়েছে, এ জন্য আশরাফুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন,ক্রিকেট বোর্ডকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাকে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন। যখন কোথাও খেলার অনুমতি ছিল না, তখন বিশেষ ব্যবস্থায় আমার ট্রেনিং চালু রাখার জন্য তারা অনুমতি দিয়েছেন। বোর্ডে আমি যখনই গেছি বা কোথাও যখনই বোর্ড সভাপতির সাথে দেখা হয়েছে, উনি উত্সাহ দিয়েছেন। বোর্ডের সিইও সুজন ভাই (নিজামউদ্দিন চৌধুরী) খুব সাহায্য করেছেন। সবাইকে এই সুযোগে ধন্যবাদ জানাই। আশরাফুল এখনই নিজেকে জাতীয় দলে কল্পনা করছেন না। তবে ভালো পারফরম্যান্স করে সেখানে আবার নিজের জায়গাটা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন,আমার জন্য সুখবর হলো, এখন আমাকে বিবেচনা করা হবে। আমার এখন লক্ষ্য হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের আগে নিজেকে পুরোপুরি তৈরি করে ফেলা। এরপর বিপিএল-এ নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা করা। এগুলো সব নিয়মিত করতে পারলে তখন জাতীয় দলের কথা ভাবা যাবে। শীর্ষনিউজ