বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
প্রকাশ : 2018-09-13

আকাশবীণার র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি

অনলাইন ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আকাশবীণার সামনের একটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানের ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপটেন এনামুল হক তালুকদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিমানের কর্পোরেট কোয়ালিটি ম্যানেজার নিরঞ্জন রায় ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আমিন। তিনি আরও বলেন, এখানে কারো গাফিলতি ছিল কি না তা তারা খতিয়ে দেখবেন। বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরে আকাশবীণা। যাত্রী নেমে যাওয়ার পর নিয়মিত গ্রাউন্ড চেকের অংশ হিসেবে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা ড্রিমলাইনার পরিষ্কার করে। পরে সিঙ্গাপুর ফ্লাইটের আগে বিএফসিসির খাবারের গাড়ি আসলে দরজা খোলার সময় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের স্টাফ মোস্তাফিজুল হক র‌্যাফটটি খুলে ফেলেন। পরবর্তীতে সেটি বিমানের প্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের বিজি-৮৪ ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ৮টা ২৫ মিনিট থাকলেও ফ্লাইটটি ঢাকা ছাড়ে ৯টার দিকে। তখন র‌্যাফট ছাড়াই ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানের প্রকৌশল বিভাগ। প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার সঙ্গে থাকে এই র‌্যাফট। এটার মাধ্যমে যাত্রীরা বিমান থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারেন। আকাশবীণার একটি ইমার্জেন্সি দরজা দিয়ে ৫৫ জন যাত্রী বের হতে পারেন। চারটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের একটির র‌্যাফট না থাকায় ৫৫ জন যাত্রী কম নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে বিমানকে। এদিকে, র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের মোস্তাফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত এবং শোকজ করা হয়েছে বলে বিমান সূত্রে জানা গেছ। প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর ড্রিমলাইনার আকাশবীণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উড়োজাহাজটির আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি, আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। আকাশবীণা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর- ঢাকা ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর