প্রকাশ : 2018-09-17

মধ্যম আয়ের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই: বার্নিকাট

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে অভিহিত করে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর দেশ আরও সুন্দর হতে পারে। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে সুন্দর দেশ গড়ি।’ সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘শান্তি বিজয়’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে মার্শা বার্নিকাট বলেন, তাদের উচিত অন্যান্য দলকে সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। দলের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসা থাকে। রাজনৈতিক কর্মীদের ভয়ভীতি ছাড়াই সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে। সব দলের প্রতি সবার সহমর্মিতা থাকতে হবে। আশা করি সামনে সবার অংশগ্রহণে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। এটাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে-নির্বাচনের আগে, চলাকালে এবং পরে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানাতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, দেশ ও নাগরিকদের স্বার্থহানী করতে চায় সহিংসতা শুধু তাদেরই কাজে আসে। একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৃণমূলের ৪০ জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অ্যালিসন ব্লেক তার বক্তব্যে বলেন, আজ সব দল এক কাতারে, আমি খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশের মানুষ একটা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা সবাইকে সহযোগিতা করতে চাই। আমরা আশা করি দেশের সব নাগরিক ও রাজনীতিবিদ সহিংসতাকে ‘না’ বলবেন। শান্তি জিতলে জিতবে দেশ, জিতবে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে ৪০ জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রমুখ। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিলকিস জাহান শিরিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, প্রাক্তন সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি প্রমুখ। ‘আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিই দেশের মানুষের কল্যাণ আনতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, যারা শান্তিপূর্ণ রাজনীতির চর্চা করবে দেশের মানুষ তাদেরকে সমর্থন করবে। তাই আমি অঙ্গীকার করছি, আমি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির চর্চা করবো। ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে আমি শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা করবো এবং দলের সহকর্মীদেরকেও নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে উৎসাহিত করবো। আমি অঙ্গীকার করছি, আমি সব সময় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সচেষ্ট থাকবো। শান্তিতে বিজয় বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের বিজয়। শান্তি জিতলে জিতবে দেশ।

জাতীয় পাতার আরো খবর