প্রকাশ : 2018-10-02

স্পেনের কাতালোনিয়ার রাস্তায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক: স্পেনের কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের এক বছর পূর্তিতে স্বাধীনতাকামী লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পৌর পুলিশ জানিয়েছে, স্বাধীনতার দাবিতে প্রায় ১ লাখ ৮০ মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। এর আগে বিক্ষোভকারীরা বার্সেলোনা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে। জিরানোয় রেল চলাচলে বাধা দেয়। কাতালোনিয়ার জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। স্পেনের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এই কাতালোনিয়ায় বাস করে। স্পেনের উত্তর-পূর্বের এই প্রদেশের রাজধানী বার্সেলোনা। কাতালোনিয়ার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পার্লামেন্ট, জাতীয় পতাকা ও সংগীত আছে। এমনকি কাতালোনিয়ার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জনপরিষেবাগুলোও এই অঞ্চল নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। এই অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো। স্পেনের মোট জিডিপির এক–পঞ্চমাংশ আসে বার্সেলোনা থেকে। গত বছর ১ অক্টোবর কেন্দ্রের বাধা উপেক্ষা করে গণভোটের আয়োজন করা হয় কাতালোনিয়ায়। এতে ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। পরে ২৭ অক্টোবর কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পর স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয় কাতালোনিয়া। কিন্তু স্পেনের সাংবিধানিক আদালত গণভোটকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার বলে, তারা এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ থেকেই সংকটের শুরু। ভোট দেওয়ার জন্য কাতালোনিয়ার অধিবাসীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া চেষ্টা করলে তাতে বাধা দিয়েছিল স্পেনের জাতীয় পুলিশ বাহিনী। কমিটিজ ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য রিপাবলিকের (সিডিআরএস) ডাকে এই বর্ষপূর্তির বিক্ষোভ হয়। মানুষের একটায় দাবি, ‘স্পেন থেকে আলাদা হওয়া’। সিডিআরএস বার্সেলোনা এবং ফিজোয়েরেসের মধ্যে রেল যোগাযোগ অবরোধ করে। এই সংস্থার ব্যানারে লন্ডন ও প্যারিসেও বিক্ষোভ হয়। গত জুনে কিম তোরার নেতৃত্বে কাতালোনিয়ায় নতুন জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বাধীন সরকার শপথ গ্রহণ করে। তবে স্বাধীনতার ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট কিম তোরা ও তাঁর পূর্বসূরি কার্লোস পুজেমন পালিয়ে বেলজিয়ামে গিয়ে নির্বাসনে আছেন। তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এএফপির খবরে জানানো হয়, প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী বার্সেলোনার রাস্তায় মিছিল বের করেন। ‘আমরা ভোট দিয়েছি এবং আমরা জিতেছি’—এই স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এ সময় কেউ কেউ সঠিক চাপ প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিম তোরার সমালোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর