প্রকাশ : 2018-10-06

দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় উৎফুল্ল আ.লীগ, হতাশ বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক: আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী গণসংযোগ। সেখানে নানা শর্ত আর বিভিন্ন ইস্যুতে এখনো গণসংযোগ শুরু করতে না পারায় কিছুটা হতাশ বিএনপির তৃণমূল নেতারা। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তফসিলের আগেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণা নয়, তারা গণসংযোগের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এ মাসের ৩০ তারিখ থেকে শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। তাই ভোটারদের কাছে গিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারাও। উদ্দেশ্য, গত দশ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, গণসংযোগ নিয়ে কেন্দ্রের এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাদেরকে আগামী নির্বাচনী মাঠে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. এনামুর রহমান বলেন, আমরা ইউনিয়নে দলীয় নেতা-কর্মীদের যাচ্ছি। সেখানে পথসভা ওঠান বৈঠক করেছি। নারায়ণগঞ্জের- ৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড.সেলিনা হোসেন বলেন, মনোনয়ন আমাদের কাছে মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্যগুলো সাফল্যগুলো বজায় রাখা। এবং এলাকায় গিয়ে নৌকার প্রচার করা। নড়াইল-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম আসিফুর রহমান বাপ্পী বলেন, সরকার গত দশ বছরে যে উন্নয়নটা করেছে, সেটি দৃশ্যমান। সেই সঙ্গে সুফলে কথা জনগণের দৌড় গড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করলেও এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে তৃণমুল বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে এখনো নির্বাচনে যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে তারা গণসংযোগে নামতে পারছেন না। যশোর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার টি.এস.আইয়ুব আলী বলেন, গাড়ি সাজিয়ে, নৌকা সাজিয়ে যেভাবে তারা বিচরণ করছে, সেটা আমরা পারছিনা। কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ড থেমে নেই। চেষ্টা করছি, প্রতিনিয়তি না হলেও মাঝে মাঝে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্দোলনেও মাঠে আছি। সেই সাথে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের চিন্তা করি না। বিএনপির তৃণমুল নেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ বলছে, মানুষের কাছে গিয়ে বলার মতো কোন ইতিবাচক দিক না থাকায় বিএনপি গণসংযোগে নামছে না। তবে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগে এভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা-তো নিজেদের প্রস্তুতি নিতে চাই। তারা আমাদের হাত-পা বেঁধে নিজেরাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি একবারেই নিষিদ্ধ। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা যাচ্ছেন। সরকারি গাড়ি করে। সরকারের লোকজন নিয়ে। এটাতো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান বলেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রচারণাকে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে না। যদি তারা দেশের আইন শৃঙ্খলা সংবিধান মেনে করে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা করছি না। নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেছি। আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ গণসংযোগের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে দলটি।