প্রকাশ : 2018-11-08

প্রধান শিক্ষক নেই ফটিকছড়ির ৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

সজল চক্রবর্ত্তী, ফটিকছড়ি :চট্টগ্রামে বৃহত্তম ফটিকছড়িতে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৮১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহতের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকান্ডেও নানা সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভায় ২২৯ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। কোন বিদ্যালয়ে ৪-৫ বছর, কোন কোন বিদ্যালয়ে ৫-৭ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে উক্ত বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৮১ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলেও তন্মধ্যে ১৮ বিদ্যালয়ে মামলা জটিলার কারণে শূণ্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছেনা বলে জানাগেছে। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা পাঠদান দিয়ে থাকলেও দপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উত্তর ফটিকছড়ির একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের দশা একেবারেই বেহাল। উত্তর ফটিকছড়ির স্কুলগুলোতে মাত্র দুই থেকে তিন জন শিক্ষক দিয়ে কোন রকম চলছে পাঠদান কার্যক্রম। দূর্গম হওয়ায় ওই ইউনিয়নগুলোতে অবস্থিত স্কুলে যোগদান করতে চায় না কোন শিক্ষক। আবার যোগদান করলেও কিছুদিন পরে শিক্ষা অফিসে তদবির করে বদলী হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার খুঁজেন ডেপুটেশনে অন্যত্র যাওয়ার পথ। শিক্ষক সংকটে খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হয় বলে জানা যায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর বলেন, উপজেলার ৮১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদের তালিকা করে উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৬ হাজার স্কুল জাতীয়করণ করা হয় তখন প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব থাকার কিছু প্রধান শিক্ষককের যোগ্যতা থাকায় তাঁরা প্রধান শিক্ষকের স্কেল পেয়েছে। কিছু প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা ছিলনা, প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব পালন করে তাদের মধ্যে থেকে ১৮ জন রিট মামলা করে। মামলা জটিলতার আইনগত ভাবে ১৮ টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা, অবশিষ্ট বিদ্যালয় গুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা প্রমোশন হতে পারে হবে বলে জানায়।