প্রকাশ : 2018-01-09

দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই- প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা খাতে টাকা দেয়া বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা খাতে দেয়া টাকাকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ। এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে এ খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন এই বিনিয়োগই দেশ ও জাতিকে চরম স্বস্তি এনে দিবে। দেশ ও জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। এক্ষেত্রে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে। পুলিশের দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্ব আরও বাড়াতে হবে। বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও ৪৪ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটাই জানালেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম। আপনারা নিজেদের জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনাদের প্রত্যেকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোলবোমা হামলা আর আগুন সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ পুলিশ সদস্য। আমি তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। এমন ভয়াল তা-বের পরও পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। যা খুবই বিরল। বিএনপি-জামায়াতের সেই তা-ব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ মোকাবেলা করেছে। সেই সাহসিকতার জোরেই দেশ থেকে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এজন্য পুলিশে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করতে পারে। ইতোমধ্যেই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ল্যাবরেটরি, ডিএনএ ল্যাব হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম হয়েছে। তারা কাজ করছেন। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য আসছে। ডিএনএ ল্যাব হওয়ার কারণে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছেন অনেকেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশ-বিদেশে আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধেই আমরা সেই নেতিবাচক ধারণার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা জঙ্গীবাদ বিষয়ে ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হতে পেরেছি। দেশে একের পর এক জঙ্গী আস্তানা আবিষ্কৃত হয়েছে। অভিযান হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গীরা। অভিযান চালাতে গিয়ে বীরত্বের সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক দোয়া। আর তাদের পরিবারের প্রতি রইল সর্বোচ্চ সহমর্মিতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে নস্যাৎ হয়ে গেছে বড় বড় সব নাশকতার পরিকল্পনা। গুঁড়িয়ে গেছে জঙ্গী আস্তানা, যা নিঃসন্দেহে যা প্রশংসার দাবিদার। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ পুলিশ চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে রয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাঁবু বানানো, খাবার দেয়া, মেডিক্যাল সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক নানা কাজে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা এককথায় অতুলনীয়। পুলিশ ইতোমধ্যেই জাতীয় জরুরী সেবা হিসেবে ৯৯৯ নম্বর চালু করেছে। যার সুফল পাচ্ছেন জনগণ। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা। পর্যায়ক্রমে সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভাল কাজ করবেন, তাদের অভিনন্দন জানানো হবে। যারা খারাপ কাজ করবেন তারা তিরস্কৃত হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যের উচিত তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাতেই জনগণ অনেক সুফল পাবে। ইতোমধ্যেই পুলিশ সদর দফতরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল স্থাপন করা হয়েছে। যা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গীবাদ নির্মূলে দেশের সকলকে এক হতে হবে। কারণ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কারও বন্ধু হতে পারে না। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ইউনিট জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং এদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস ও মোবাইল এ্যাপ প্রবর্তনের উদ্যোগকেও প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলেন, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরজমান রাখার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কোন বিকল্প নেই। এজন্য এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। এ খাতে দেয়া অর্থকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন দেশ ও জাতিকে এই বিনিয়োগ স্বস্তিতে রাখবে। উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। এর আগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করে সালাম ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন। ২০১৭ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ৩০ জন বিপিএম এবং ৭১ জন পিপিএম পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পেয়েছেন বিপিএম সেবা পদক এবং ৫৩ জন পেয়েছেন পিপিএম সেবা পদক।

জাতীয় পাতার আরো খবর