প্রকাশ : 2019-01-10

৪ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচকে

অনলাইন ডেস্ক: চটি মানদণ্ডে ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ উন্নীত হয়েছে। বুধবার ( ৯ জানুয়ারি) ১শ ৬৫টি দেশের ওপর করা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্সি'র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নতি, নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেই গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার- পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ধাপের সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। কোনো দেশের গড় ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে 'পূর্ণ গণতন্ত্র', ৬ থেকে ৮ হলে সেখানে 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র', ৪ থেকে ৬ 'মিশ্র শাসন' এবং ৪ এর নিচে হলে সে দেশে 'স্বৈরশাসন' রয়েছে বলে ধরা হয়। ১৮ সালে ৫ দশমিক সাতান্ন স্কোর নিয়ে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। স্থান পেয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়। যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ৯ দশমিক সাতাশি স্কোর নিয়ে গতবারের মতো তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। গতবছর এই সূচকে এক ধাক্কায় আট ধাপ পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। নেমে গিয়েছিল ৯২তম অবস্থানে। স্কোর ছিল ৫ দশমিক চার তিন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল সবচেয়ে বাজে অবস্থান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, '১৮ সালে এসে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। যার প্রভাব পড়েছে গণতন্ত্র সূচকে। অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ মনে করেন, ( উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ সামনে দিকে এগোচ্ছে। যেমন ২০১৮ সালের এই নির্বাচনটা হলো। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়েছে এবং ভোটারদের যে বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি সেটা আমরা দেখেছি। যেটুকু ত্রুটি রয়েছে সেটা আমাদের রাজনৈতিক দলের দুর্বলতার কারণে রয়েছে। এদিকে, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সরকার বিরোধী জোটের অভিযোগকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার উপায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক আবদুল মান্নান (চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন) বলেন, 'গণতন্ত্র নাই বলে যারা চিৎকার করে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে এরকম কথা বলে। আমার মনে হয় না দেশের মানুষের এসব নিয়ে মাথাব্যথা আছে।' সরকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা।