বুধবার, জানুয়ারী ১৭, ২০১৮
প্রকাশ : 2018-01-14

শীতে উত্তরে জনজীবন অচল দ্রুতই শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সুখবর নেই।

দ্রুতই শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সুখবর নেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানের এই অবস্থা আরও কয়েকদিন বিরাজ করতে পারে। ধীরে ধীরে যেমন তাপমাত্রা বাড়ছে, শীতের মাত্রাও ধীরে ধীরেই কমে আসবে। বর্তমানে সারাদেশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যশোরে টানা তিনদিন তাপমাত্রা সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। শনিবার এ জেলায় সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে উত্তরের মানুষ কার্যত ঘরবন্দী। জানুয়ারি শেষ নাগাদ আবারও শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছেন তারা। গত ৪ জানুয়ারি থেকে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। তা তীব্র আকার ধারণ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বনিম্ন ২.৬ ডিগ্রীতে নেমে আসে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও শীত পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। খোদ রাজধানীবাসীও এবার শীতে কাবু। আর উত্তরাঞ্চলের শীত উপস্থিতি হয়েছে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে। এক সপ্তাহ ধরে শীতে তারা কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়ছে। বিশেষ প্রয়োজন এবং কাজের সন্ধ্যানে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কোন কোন এলাকা সূর্যের মুখটা দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনজীবন। দিনেরবেলায়ও কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যানবাহনের জন্য বেশি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে শীতের সঙ্গে পড়া ঘন কুয়াশা। এই অবস্থায় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দ্রুত শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়ছে। এভাবে আস্তে আস্তেই শীত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমানের অবস্থা আরও কয়েকদিন বিরাজ করবে। তাপমাত্রা আরও বাড়লেও শীত তখন কমে আসবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি শেষ নাগাদ আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে সারাদেশে। তখন শীত আবার বাড়তে পারে। তবে জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের আবহ থাকবে বলে জানান। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তারা জানায় টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, সীতাকু- ও রঙ্গামাটি অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ দেশের কোন কোন এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রী সেঃ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তরের জনগণ এখন শীতে জবুথবু। ৫ থেকে ৭ ডিগ্রী তাপমাত্রার মধ্যে ১০দিন ধরেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। শীতের কারণে স্বাভাবিক কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। হাড় কাঁপনো শীত মানুষকে অনেকটা ঘরবন্দী করে ফেলেছে। শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে কাটছে তাদের জীবন। গরম কাপড়েও যেন শীত মানতে চাচ্ছে না। প্রাণীকুলের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে দিন দিন। শীতে অভাবী মানুষের করুণ দশা যেন বেড়েই চলেছে। রাজশাহী# এবার প্রলম্বিত শীতের কবলে পড়েছে উত্তরের রাজশাহী অঞ্চল। শীতকালে সাধারণত কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহ স্থায়ী হলেও এবারের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ স্থায়ী রয়েছে এ অঞ্চলে। ফলে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। টানা শীতে প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। দীর্ঘমেয়াদী শৈত্যপ্রবাহে এরইমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে লাখ লাখ টাকার পান। বোরোর বীজতলায় দেখা দিয়েছে কোল্ড ইনজুরি। এমন টানা শীত এর আগে পার করেনি এ অঞ্চলের মানুষ। টানা শীতে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছে হিমাগারে। যশোর# দশদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুল। প্রতিদিনই ৫ থেকে ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে তাপমাত্রা। শনিবার সকালেও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন সকালে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে এই মৌসুমে তিনদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড করা হলো। প্রচ- শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। খুব সকালে ক্ষেতে প্রতিদিনের মতো চাষির দেখা মেলেনি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষকে। কুড়িগ্রাম# টানা শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তাপমাত্রা বেশি নিম্নগামী ও শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাড়ছে শীত জনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হার্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। দুপুরের পর সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ ছড়াতে না পাড়ায় দিনেরবেলায়ও তাপমাত্রা বাড়ছে না। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো টপ টপ করে পড়ছে কুশায়া। কুয়াশার পানিতে ভিজে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। কৃষি শ্রমিকরা কাজে যেতে না পারায় বিলম্বিত হচ্ছে চাষাবাদ। খাদ্য সঙ্কটে পড়ার উপক্রম হয়েছে শ্রমিকদেরও। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন গত বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো নদ-নদীর তীরবর্তী মানুষ। নীলফামারী# কনকনে ঠান্ডার কমতি নেই। শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে কাটছে উত্তরের নীলফামারীসহ পার্শ¦বর্তী এলাকার জনজীবনের দিনরাত। গরম কাপড়ও যেন শীত নিবারণে ফেল মেরেছে। শুকনো পাতা, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষজন। পথঘাটে কমেছে চলাফেরা। পারদ যত নামছে ততই গুটিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। শনিবার ছিল প্রচ- ঘন কুয়াশা। শীত মহাসঙ্কটে ফেলে দিয়েছে সকলকে। ক্ষেতখামারে কাজ থমকে গেছে। হাত-পা জমে যাওয়ার মতো এমন শীত অচল করে রেখেছে জনজীবন। দিনরাত শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। মাঝে দুপুরের পর একআধটু রোদের দেখা মিললেও তা নিমিষেই হারিয়ে যাচ্ছে। ১০দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ছক্কা হাঁকিয়ে পারদ নামিয়ে কনকনে শীত এনেছে। সঙ্গে কুয়াশা ঘন মেঘলা আবহাওয়ায় ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় কাঁপুনি বাড়তে থাকে। প্রচ- শীতে শহরের ভবঘুরেদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। দিনাজপুর # দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানের চিড়িয়াখানায় শীতের কারণে ৪৭টি চিত্রা হরিণের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া না হলে হরিণগুলোর মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া ১২টি মা হরিণ যে কোন সময় নতুন শাবকের জন্ম দিতে পারে। সৈয়দপুর # চলমান তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতে আড়ষ্টতা কাটছে না সৈয়দপুরের প্রাণিকুলের। শীতের হিমেল হাওয়ায় আর ঘন কুয়াশায় বস্ত্রাভাবে কাহিল হয়ে পড়েছে অভাবী মানুষজন। ইরি-বোরো বীজতলা পড়েছে কোল্ড ইনজুরিতে। বাড়ছে শীত জনিত রোগ। সকল বয়সীই আক্রান্ত হচ্ছে শীত জনিত রোগে। তবে গতকালের বাড়ন্ত তাপমাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার প্রায় ২০ হাজার দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্রের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর