প্রকাশ : 2019-01-23

বসবাসযোগ্য হোক ঢাকা পরিকল্পিত শিক্ষার আশা

লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ইআইইউ বাসযোগ্যতা নির্ণয়ে বিশ্বের ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এটি অবশ্য প্রকাশ করেছে ১৪ আগস্ট ২০১৮ সালে। তাদের জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে প্রথম ১০টি হলো- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্টেলিয়ার মেলবোর্ন, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগেরি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জাপানের টোকিও, কানাডার টরেন্টো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর প্রথমে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। তালিকার পরবর্তী শহরগুলো হলো- ঢাকা, নাইজেরিয়ার লাগোস, পাকিস্তানের করাচি, পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মরিসবি। ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় দেশি-বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধ চলছে। বিমান হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে সেখানে। ফলে দামেস্কের বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু আমাদের স্বপ্নছোঁয়া উন্নয়নশীল দেশের রাজধানী ঢাকা বছরের পর বছর বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে থাকাটা গভীর বেদনা আর শংকা তৈরি করে। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকত তবে ঢাকা বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত, এই ভাবনাও আমাদের কাচুঁমাচুঁ করে। অবশ্য আশংকা তো আর নতুন নয়। রাজধানী ঢাকা আর নাগরিক সমস্যা সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে বহু আগেই। আমাদের প্রাণের শহর বর্তমানে ঢাকার ভেতরের চিত্র দিন দিন প্রত্যাশার বেড়াজাল ছিন্ন করছে। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী দখলদারিত্বের কবলে পড়ে আবদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক এই নদ-নদী। নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে দুর্বিষহ যানজট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, পয়ঃনিস্কাশনের জটিলতা, দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পরিবেশ, অসম্ভব ঘনবসতি, ভেজাল খাবার, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্দশা, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, মাদকের ভয়াল ছোবল, ছিনতাই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, লাগামহীন বাসা ভাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ইত্যাদি নানা সমস্যা। অসংখ্য সমস্যার মধ্যে যেটি প্রধান হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে যানজট। এ সমস্যা এখন নিত্যদিনের নৈমিক্তিক বিষয়। যানজটে মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার হিসাব বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময়ে দিয়েছে। বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে যানজটের কারণে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি বলেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ জাতিসংঘের ইউএনডিপি এক গবেষণায় বলেছে, যানজটে বছরে ক্ষতি হয় ৩৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাস্তবতা হয়তো আরো ব্যাপক, ভিন্ন, আমাদের অন্তরাত্মা বিমর্ষ বিদির্ণ। ঢাকা মহানগরে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ও বিভিন্ন নির্মাণকাজের কারণে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক; মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ১৭২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ জাতীয়ভাবে পিএম ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও ভয়াল ভয়াবহ। মশাবাহিত রোগ; যেমন- চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতির ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট মাত্রায়। ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত পরিবেশ; পেটের পীড়া, জন্ডিস ও টাইফয়েড আক্রান্ত হয় মানুষ। ঢাকার একটি বার্ষিক উপদ্রব ডায়রিয়া। বছরে দুবার, বর্ষার শুরুতে ও শেষে এ উপদ্রব দেখা দেয়। পয়োনিস্কাশন ভালো নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকার মলমূত্রের মাত্র ২ শতাংশের নিরাপদ নিষ্কাশন হয়। বাকিটা মিশে যায় প্রকৃতিতে, পানির উৎসে। বিবিএস ও ইউনিসেফের তথ্য মতে, ঢাকায় সরবরাহ করা পানির দুই-তৃতীয়াংশে মলবাহিত জীবাণু থাকে। এটি জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো নয় বলে একটু বৃষ্টি হলেই স্যুয়ারেজ, ড্রেন আর পাইপের পানি একাকার হয়ে যায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা প্রকট সমস্যা। ঘন্টাখানেকের টানা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার রাস্তাঘাট। কিছু এলাকা; যেমন- মিরপুর, মানিকনগর, মালিবাগ, ওয়্যারলেস, তেজগাঁও, পল্লবীর কালশী রোড, দৈনিক বাংলা মোড়ে রাস্তায় পানি থইথই করে। ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা। বেশির ভাগ রাস্তা ও গলি অপ্রশস্ত, ইট-খোয়া-বিটুমিন ওঠা, ময়লায় ভর্তি। এসবের ফল যানজট। রাস্তার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি চলে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও সন্তোষজনক নয়। ছিনতাই-রাহাজানি নিত্য ঘটনা; খুনখারাবি আছে। বাজারও নিয়ন্ত্রণহীন, বিশেষ করে শাকসবজির বাজার। পাইকারি ও খুচরা দরে পার্থক্য অনেক। বাসযোগ্যতার সূচকে এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করেই তালিকা চূড়ান্ত করে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলশ্রুতিতে যেসব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তার সবগুলোর উপস্থিতি এখানে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সেগুলোর সমাধান আদৌ সম্ভবপর কিনা তা ভাবনার বিষয়। দেশের রাজধানী শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা তার ধারে কাছেও নাই অভাগা নগরবাসী। তারপরও প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ঢুকছে এ শহরের পেটে। বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরো কিছু মানুষ, সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা আর প্রকট হয়ে উঠছে পুরাতন সমস্যা। এক দুঃসহ জীবন পার করছে এই নগরবাসী। বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার উপায় নিয়ে অনেক নগরবিশারদ, জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি তাদের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রতিটি সরকারই বিভিন্ন সময়ে তাদের নানামুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে থাকে। কখনো কখনো কিছু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ চোখেও পড়ে। এসব পদক্ষেপের বেশির ভাগই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারে না। মাঝপথেই হোঁচট খায়, অর্থের অপচয় হয়, জনগণের ভোগান্তি যে স্তরে ছিল সেই স্তরেই আটকে থাকে। ভাবা হয়ে থাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যাই মূল সমস্যা। যে পরিমাণ মানুষ এখানে বাস করে তার ভার সহ্য করার ক্ষমতা এ শহরটি হারিয়ে ফেলেছে। বাকশক্তি থাকলে নিশ্চিত অনেক আগেই চিৎকার করে জানিয়ে দিত এ অক্ষমতার কথা। ঘর থেকে বের হলেই চোখে পড়বে হাজারো মানুষের নানামুখী । রাস্তাঘাট, টার্মিনাল, শপিংমল, পার্কÑ কোথায় নেই মানুষের ভিড়। সরকারি হিসাবে ঢাকায় বর্তমান বসবাসরত জনসংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লক্ষ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটার বাস করে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব মানুষের বাসস্থান পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ চলাচলের পর্যাপ্ত যানবাহন বাস, রিকশা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তো কোন না কোনভাবে ব্যবস্থা হচ্ছে। এত মানুসের চাওয়া পূরণ করা এই শহরটির পক্ষে সম্ভব কিনা তাও তো ভাবনায় ফেলার কথা। সকল নাগরিকের পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো সম্পদ, সামর্থ্য এ রাষ্ট্রের যেমন নেই, সামর্থ্য থাকলেও এই ছোট্ট জায়গায় সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করাও সম্ভব নয়। একারণেই জনসংখ্যার ভার কমানো, শহরমুখী প্রবণতা রোধ করার জোরালে পদক্ষেপই অযোগ্য এই শহরটিকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির জন্যই স্লোগান হচ্ছে আমার গ্রাম, আমার শহর আর তা সম্ভব হলে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা মিটিয়ে আমার গ্রাম স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে শহরমুখী প্রবণতাও রোধ করা যাবে। গ্রামে প্রচুর সম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে, প্রতিটি সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান যত পদক্ষেপ নিয়েছে, যত অর্থ ব্যয় করেছে বা যত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার এক-দশমাংশ পদক্ষেপও নেয়নি গ্রামাঞ্চলে। স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে শহরমুখী প্রবণতা রোধ করা যেতো। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে প্রয়োজন নিরীখে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়নি। একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো ডিপ্লোমা শিক্ষা। দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভর জাতি গঠন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেজন্যই ডিপ্লোমা শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হয়। জাতির মেরুদ- শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডিপ্লোমা শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো- জ্ঞান সঞ্চারণ, নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দুভার্গ্য যে এসমস্ত প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশীরভাগই রাজধানীমুখী ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন ভিন্ন ৭টি প্রতিষ্ঠানও ঢাকা শহরে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্য, কৃষি, মেরিন প্রকৌশল শিক্ষায় ১১৭২ টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অর্ধেকের বেশি ৬১৮ টি। বাকি ৫৫৪ প্রতিটি করা হয়েছে ৩৩টি জেলায়। ৩০টি জেলায় কোন ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কেবল প্রকৌশল বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করলে উৎপাদনমুখী শিক্ষার মাত্র ৭/৮ ভাগ করা হয়, বাকীরা থাকে আঁধারে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ৬১৮টি ইনস্টিটিউটে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাকি অল্প কিছু নিজেই শিল্প, কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে তুলেন। ঢাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ঢাকা শহরের উপর জনসংখ্যার বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বাকি ৩৩টি জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের স্বল্পতা এবং ৩০টি জেলায় ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্বেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিবছর ডিপ্লোমা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ইপিজেট, স্পেশাল ইকোনামিক জোন, বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলোতে প্রশিক্ষিত দক্ষ যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল, ক্লিনিকে প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভুল চিকিৎসার শিরোনাম হচ্ছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করতে হলে প্রতিটি উপজেলায় জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করে শিল্প কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে নতুন করে কোন শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক যাতে গড়ে না উঠে তার জন্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট অনুমোদন স্থগিত করতে হবে। এই চিন্তা থেকেই পরিকল্পিত ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক পরিকল্পিত ঢাকা মহানগরী, পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত কর্মফলে দূর হবে আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি হবে আলোকিত রাজধানীর নাগরিকরাও আলাদা মর্যাদা ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব,ডিপ্লেমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল,khanaranjanroy@gmail.com

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর