প্রকাশ : 2018-01-14

শীতে রোহিঙ্গাদের দিন কেমন কাটছে ?

বাংলাদেশ জুড়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শীতে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখভাল করে এমন একটি এনজিও সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশনাল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ শওকত আলী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা এ শীতে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য অনুদান দেয়া শীতবস্ত্রগুলো পর্যাপ্ত নয়। অল্প কিছুদিন আগে যারা এসেছেন, তাদের আবাসনের ব্যবস্থাও তেমন মজবুত নয়। শীতে রোহিঙ্গাদের দিন কেমন কাটছে ? এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, তারা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারের নির্ধারিত তিন হাজার একর জায়গাতে মেগাক্যাম্প করা হয়েছে। সে মেগাক্যাম্পের বাইরেও, টেকনাফ ও উখিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা বসবাস করছে। এখানে তারা যেভাবে শেল্টারগুলোতে থাকছে, সেগুলো প্লাস্টিক শিট ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি। রাতে যখন কুয়াশা পড়ে এগুলো ঘেমে গিয়ে বৃষ্টি হয়ে তাদের ঘরের ভিতরে পড়ে। পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের বসবাস হওয়ার ফলে মাটির নিচ থেকেও ঠান্ডা ওঠে। সেখানে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। অনেকগুলো শীতবস্ত্র এবং কম্বল বিতরণ করেছে। অনেকগুলো পরিবার তিনটা বা পাঁচটা করেও কম্বল পেয়েছে। কিন্তু এগুলো তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অনেকগুলো পরিবারে ৭ থেকে ৮ জন সদস্য থাকে, তাদেরকে অনেক পাতলা কম্বল দেয়া হয়েছে, এ কম্বলগুলো দিয়ে বৃদ্ধা এবং শিশুদের শীত নিবারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শীতবস্ত্র এবং আবাসন ছাড়া তাদের কোন ধরণের সহায়তা প্রয়োজন আছে কী ? জবাবে শওকত আলী বলেন, আমাদের সাথে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম তাদের নেতৃত্বে অনেকগুলো সহায়তা দিচ্ছে। এখানে ওয়াটার স্যানিটেশন, হেলথ হাইজিন এবং নিউট্রিশনের সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। ডব্লিউএসফির সহায়তা আইএফোর এবং এনএফআই অনেকগুলো সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এরপরেও অনেক সহায়তার দরকার। যেমন জ্বালানি সরবরাহ, এখানে এটার অত্যন্ত প্রয়োজন। গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের সাপ্লিমেন্টারি খাবার আরো বাড়ানো দরকার। মেডিকেল সাপোর্ট, ওয়াটার স্যানিটেশন সাপোর্ট বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে কমিউনিটি লিডার, যারা ম্যানেজমেন্টের কাজ করে তাদের ক্যাপাসিটি ডেভলপমেন্ট করা দরকার। জেন্ডার ভায়োল্যান্স যাতে না ঘটে মানুষকে সর্তক করা এবং সে বিষয়ে কাজ করা দরকার।

সারা দেশ পাতার আরো খবর