প্রকাশ : 2018-01-14

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ

আফ্রিকান অভিবাসীদের কটাক্ষ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতারা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আবর্জনা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর পরপরই তার বক্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এমন মন্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলেও আখ্যা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলেননি; বরং তাদেরকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। গণমাধ্যমে বিরুদ্ধে তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াট হাউসের ওভাল দপ্তরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সিনেটরদের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বৈঠকে কাণ্ডটি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক কথায় দু'কথায় এক পর্যায়ে হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলে আখ্যা দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্যারাবিয়ানদের কটাক্ষ করায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসকারী হাইতির নাগরিকরা। ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন তারা। হাইতির নাগরিকরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যুক্তরাষ্ট্রে সবাই সমান। প্রত্যেকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিৎ। বিতাড়িত করা, বা এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ লজ্জাজনক। শুক্রবার রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে আয়োজিত শোকসভায়ও ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন হাইতিয়ানরা। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আফ্রিকানদের ইতিহাস জানার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেনিয়রা। তারা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আদিকাল থেকে মার্কিনীদের সঙ্গে হইতিয়ানদের ভালো সম্পর্ক চলে আসছে। এটা খুবই দুঃখজনক প্রেসিডেন্ট আমাদেরকে নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলছেন। আমার মনে হয় ট্রাম্পের নিজেকে শোধরানো উচিৎ। কারণ এসব বক্তব্য তাকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তুলনা করতে পারে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন ২শ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমরা আমাদের জায়গায় উন্নতি করে যাচ্ছি। আমাদেরকে অসম্মান করার কোনো অধিকার ট্রাম্পের নেই। আমি আশা করি ট্রাম্প তার অসুস্থ বক্তব্য প্রত্যাহার করবে। আফ্রিকানদের আবর্জনা বলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে বলেছে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আফ্রিকান ইউনিয়ন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যে আফ্রিকান জাতি মর্মাহত, অপমানিত এবং উদ্বিগ্ন বলেও জানায় সংস্থাটি। এর সালভাদরের নাগরিকদের সম্মান দিয়ে কথা বলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সানচেজ ক্যারেন। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এসবরে মধ্যেই ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা সংস্থার মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ জন্য তাকে বর্ণবাদী ছাড়া অন্য শব্দে অভিহিত করা যায়। তিনি কোনো ভাবেই একটি দেশের মানুষকে অবহেলা করতে পারে না। পুরো জাতিকে আবর্জনা বলে অবজ্ঞা করতে পারেন না।' এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে দুঃখজনক এবং উচ্ছৃঙ্খল বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে শুক্রবার নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আবর্জনা শব্দ তিনি ব্যবহার করেননি। আফ্রিকান অভিবাসীদের কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছেন। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য সঠিকভাবে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চাপে পড়ে টুইটে নিজের পক্ষে সাফাই গাইছেন বলে অভিযোগ করেন গত ওভার অফিসে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা ডেমোক্রেট সিনেটর ডিক ডারবিন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি নিজের কানে শুনেছি তিনি কয়েকবার বর্ণবাদী এবং ঘৃণিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। পরে গণমাধ্যমে এসব তথ্য দেখে আমি মোটেও বিস্মিত হয়নি। কারণ গণমাধ্যমে ভুল কিছু আসেনি।'