প্রকাশ : 2019-02-20

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ চলমান : অর্থমন্ত্রী

২০ফেব্রুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ এখনও চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,রিজার্ভ চুরি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণাদিসহ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার জন্য ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি আইনী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আমাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা এ মামলাটি দায়ের করতে পেরেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ব্যবস্থাপনাও বাংলাদেশ ব্যাংক করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষণ করা হয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের রিজার্ভ এখানেই সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো-বিগত ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা ৭০টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ৫টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্রান্সফার কার্যকর করার পর নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ সন্দিহান হয়ে বাকি পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনগুলো এক্সিকিউট করেনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সরকার চুরির অর্থ উদ্ধার, চুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ চুরিরোধে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তিনি দ্রুত সরকারের কাছে একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে পুলিশের সিআইডিকে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ড. ফরাস উদ্দিনের রিপোর্টটি যাতে এ তদন্তে প্রভাব না ফেলে, এ জন্য তা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এর সাথে বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইউএসর এফবিআই এবং ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলংকা থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয় এবং ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই নিজ দেশে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ফিলিপাইনে এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর