প্রকাশ : 2019-04-04

চালকদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে: মেয়র মো. আতিকুল

৪এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালকদের ডোপ টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, চালকদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডোপ টেস্ট ছাড়া কোনও চালক মাঠে নামতে পারবে না। এই পরীক্ষার মাধ্যমে চালক নিয়োগ দেয়া হলে তারা আর নেশা জাতীয় অপরাধের সঙ্গে জড়াতে পারবে না। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য কিছুদিন সময় চেয়েছেন মেয়র। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ডিএনসিসি এর কনফারেন্স রুমে সরকারি অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সড়ক দুর্ঘটনায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিতায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, বিআরটিএ-কে দালালমুক্ত করা, চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানোর পরিবর্তে চালকদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা, বাস স্টপেজ, রোড সাইন কার্যকর করা, গণ পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, ছাত্র-ছাত্রীদের অর্ধেক ভাড়া নিশ্চিত করা, হালকা যানবাহনের লাইসেন্স নিয়ে ভাড়ি যানবাহন চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ফুট ওভার ব্রিজ না করে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে জোর দেওয়া। এসব দাবির প্রেক্ষিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন, আমরা বিআরটিএ-কে দালালমুক্ত করতে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছি। তারা সার্বক্ষণিকভাবে বিআরটিএ-তে কাজ করছেন এবং অনেক দালালকে শাস্তি দিয়েছেন। এসময় ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দালালদের শাস্তি দিলেও কর্মকর্তাদের কেন দেওয়া হচ্ছে না। এসময় তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটরা আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন। পরে ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে বিআরটিএর অভিযানে ছাত্রদের যুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ছাত্রদের দাবি এবং অন্যান্য সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চালকদের ডোপ টেস্টরে আওতায় নিয়ে আসছি। এটা করতে পারলে সড়কে শৃঙ্খলা অনেকটাই ফিরে আসবে। এজন্য কিছুদিন সময় চেয়ে মেয়র বলেন, আমি দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে কথা বলবো, বাসমালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মেয়র আরো বলেন, আমরা অনেকগুলো কাজ শুরু করেছি। তার মধ্যে লাল রং দিয়ে বাস স্টপেজ লেখা নিশ্চিত করা হবে। জেব্রা ক্রসিং, পুস বাটন ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এবার শুধু জেব্রা ক্রসিং নয়, ফ্লাস লাইট সিস্টেমও চালু হবে। এছাড়া প্রগতি স্মরণীকে মডেল সড়কে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র। আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই সবাই মিলে কাজ করতে। সেজন্য আমরা সবকিছু জবাব দিহিতার আওতায় নিয়ে এসেছি। আজ ছাত্ররা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারছে এবং সেই প্রশ্নের উত্তরও পাচ্ছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আব্দুল হাই, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মীর রেজাউল আলম, বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর